Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৪
পরিচয় মিলছে ৬৯ বছর পর
ছিটে থাকা অবস্থায় বাইরে ভোটার হয়েছেন অনেকেই, স্থানান্তর আবেদনের হিড়িক
মাহমুদ আজহার ও সরকার হায়দার, গাড়াতি (পঞ্চগড়) থেকে
পরিচয় মিলছে ৬৯ বছর পর

দীর্ঘ ৬৯ বছর পর জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন পঞ্চগড়ের রাজমহলের (বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহল) অধিবাসীরা। চলছে ভোটার তালিকা তথ্য সংগ্রহের কাজ। ১০ জুুলাই থেকে শুরু হওয়া এ কাজ চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। শুধু রাজমহল নয়, সারা দেশে ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে সমানতালে। আগামী ৩১ জুলাই ছিটমহল বিলুপ্তির এক বছর পূর্তি হবে।

পঞ্চগড়ের গাড়াতিতে সাতটি ছিটমহল ছিল। সেখানে জনসংখ্যা ২ হাজার ৮১ জন। মোট আয়তন ১ হাজার ১১৭ একর। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষের বয়স ১৮ বছরের ওপরে। মোট পরিবার ৪২২টি।

এর মধ্যে ৮১ জন হিন্দু বসবাস করছেন। ছিটমহল থাকায় দীর্ঘদিন তারা মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার ভোটাধিকার ফিরে পাচ্ছেন। তবে তাদের অর্ধেকই বাইরে ভোটার হয়েছেন বলে তথ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা এখন স্থানান্তরের জন্য আবেদন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর এই ছিটমহলের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে রাজমহল। দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ। পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ১০ জুলাই ভোটার তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। ১৭ জুলাই শুরু হবে ডিজিটাল স্বাক্ষর, ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ। চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ছিটমহলে যারা আগে ভোটার হয়েছেন, তারা ইচ্ছা করলেই স্থানান্তরিত হতে পারবেন। শুধু ছিটমহলবাসীর জন্যই সরকার এ সুবিধা রেখেছে। জানা যায়, ছিটমহল থাকা অবস্থায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, চাকরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আশায় ছিটের বাইরে ভোটার হয়েছেন রাজমহলের প্রায় অর্ধেক নাগরিক। তারা এখন নিজ এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন। ছিটে থাকা অবস্থায় অনেকেই ভোটার হয়ে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ে চাকরিও করছেন। আবার কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। সরেজমিন রাজমহলে ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার তথ্য সংগ্রহকারীরা পুরোদমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিবাসীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভোটার হওয়া অধিবাসীরা রাজমহলে এসে স্থানান্তরিত হওয়ার আবেদন সংগ্রহ করছেন। এ ক্ষেত্রে কিছুটা বিড়ম্বনার শিকারও হতে হচ্ছে ভোটারদের। এর পরও নিজ জন্মভূমিতে ভোটার হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কেউ। ভোটাধিকার পেয়ে উত্ফুল্ল বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটের অধিবাসীরা। জাতীয় পরিচয়পত্র পেলে অন্য নাগরিকদের মতোই বাংলাদেশের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন— এমনটাই মনে করছেন তারা। তবে পরিচয়পত্র ছিটবাসীর হাতে কবে পৌঁছবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারীরা।

জাহানারা বেগম নামে রাজমহলের এক নারী ভোটার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘স্বামীসহ আমি রাজধানীর মিরপুরে ভোটার হয়েছি। এখন স্থানান্তরের জন্য নিজ গ্রামে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে জন্মভূমিতে ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে। আমি খুবই খুশি। ’

বিজয় বর্মণ নামে এক সনাতন ধর্মীয় অধিবাসী বলেন, ‘আমাদের অন্ধকার জীবন কেটে যাচ্ছে। সূর্য উদয় হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে মরতে পারব এটাই শান্তির। আমাদের ৩০ পরিবার হুদুপাড়ায় ভোটার হচ্ছে। এটা খুবই গর্বের। ’ ভোটার তথ্য সংগ্রহকারী কোহিনূর নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহে শতভাগ সাড়া পাচ্ছি। ভোটার স্থানান্তরের ফরমও দেওয়া হচ্ছে। বিলুপ্ত ছিটমহলের অনেকেই বাইরে ভোটার হয়েছেন। তারা এখন স্থানান্তর হওয়ার ফরম পূরণ করছেন। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow