Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫০
প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেত্রীর যৌন নিপীড়ন মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেত্রী তাকে মারধর ও তার শ্লীলতাহানি এবং টাকা ও অলঙ্কার ছিনতাই করার অভিযোগে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার ছোট ভাই মহিউল আহমেদ মহির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার বাদী সুমনা আক্তার লিলি। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক। মঙ্গলবার রাত ১১টায় রংপুর কোতোয়ালি থানায় তিনি মামলা করেন।

এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত মামলা নিতে গড়িমসি করার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানা চত্বরে বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম থানায় আসার পর দ্রুত মামলা রুজু করেন ওসি। মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সুমনা আক্তারের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে বড় ভাই তারাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদ বকশীর মোটরসাইকেলে করে এসে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আমের বাজারে আম কিনতে আসেন। এ সময় মহিউল আহমেদ মহি মোটরসাইকেলে করে তাদের পেছনে এসে হর্ন বাজাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে শাহীদ বকশী নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে চেঁচামেচির কারণে হর্ন শুনতে পাননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু এ সময় মহি মোটরসাইকেল থেকে নেমে শাহীদ বকশীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

সুমনা ভাইকে রক্ষায় এগিয়ে এলে মহি তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে গায়ের জামা ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় মহি সুমনার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন ও পার্সে থাকা আম কেনার ২০ হাজার ৫০০ টাকা বের করে নেওয়ার পর সুমনাকে তার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। বাদী সুমনা আক্তার লিলি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ভাই যে আচরণ করেছেন সভ্য সমাজে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে মহির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহিকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। মহির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, যৌন নিপীড়ন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow