Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৫
প্রযুক্তি
হাইটেক পার্কে যুক্ত হবে ইলেকট্রিক শাটল ডেমো
শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্
হাইটেক পার্কে যুক্ত হবে ইলেকট্রিক শাটল ডেমো

প্রযুক্তির উন্নয়নে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক হাইটেক পার্ক। এ পার্কে থাকছে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়।

যোগাযোগ     ব্যবস্থা উন্নয়নে পার্কে যুক্ত থাকবে ইলেকট্রিক শাটল ডেমো। রাজধানী ঢাকা ও হাইটেক পার্কের মধ্যে যোগাযোগের জন্য চালু করা হবে ডিজেল ইলেকট্রিক শাটল ট্রেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাইটেক পার্কটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৪২ কোটি টাকা। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য থাকবে ২ তলা ভবন, ছাত্রাবাস, আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নয়নাভিরাম হাইটেক পার্কের ওপর দিয়ে যাবে রেলপথ। এখানে থাকবে রেলওয়ে স্টেশনও। এ জন্য ২ সেট (৬ ইউনিটে এক সেট) ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ঢাকা টু হাইটেক পার্ক রেলপথে এই ডেমোগুলো চলাচল করবে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনগুলোকে না ঘুরিয়েই ঢাকা-হাইটেক পার্কে যাতায়াত করা যাবে। শুধু হাইটেক পার্কই নয়, এর আশপাশের সাধারণ মানুষও এই ইলেকট্রিক শাটল ডেমোর সুবিধাভোগ করতে পারবেন। দুই সেট ডেমোসহ অবকাঠামো কাজে ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইলেকট্রিক শাটল ডেমো চালু করা হবে। সূত্র আরও জানায়, নতুন কিছু রোলিং স্টোক সংগ্রহ করা হবে। কিছু কোচ, লোকোমোটিভ ও ডেমমাও কেনা হবে। হাইটেক পার্কের জন্য মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিয়াকৈরে বি ক্লাস রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে হাইটেক পার্কের স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণ কাজ ৯০ শতাংশ, সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ ৯৫ শতাংশ, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ৫০ শতাংশ, ৩ তলা প্রশাসনিক ভবনের ফিটিং ৯০ শতাংশ, ফিক্সার স্থাপন কাস্টমস হাউস নির্মাণ কাজ ২৫ শতাংশ এগিয়েছে। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও বুয়েটে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ কাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এইসঙ্গে এখন নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাড। উঁচু উঁচু টিলা কেটে তৈরি করা হচ্ছে অন্যান্য অবকাঠামো। এ ছাড়া চারতলা বিশিষ্ট মূল প্রশাসনিক ভবন, গেটওয়ে, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র, টেলিফোন সাব এক্সচেঞ্জ, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন জানান, হাইটেক পার্ক বিশাল সম্ভাবনাময় একটি আইটি শিল্প এলাকা। এখানে মোবাইল থেকে শুরু করে ল্যাপটপ তৈরি করা হবে। দেশে নির্মিত সফটওয়্যার দিয়েই চালানো হবে ব্যাংক, বীমা, কলকারখানা, অফিস-আদালত। এখানেই তৈরি হবে বিশ্বমানের সব পণ্য। ফলে এখানে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। দেশে বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ। কমবে মেধা পাচারও। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পর্কে আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর পরে দেশের ষষ্ঠ তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পাবে গাজীপুরের ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি এবং আইটিইএস (আইটি অ্যান্ড আইটি এনাবল্ড সার্ভিসেস)-এর ওপর পড়াশোনা করা যাবে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি থাকবে উচ্চতর বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ। মূলত হাইটেক পার্কের মানবসম্পদ নেওয়া হবে দেশের একমাত্র ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটপুট হবে হাইটেক পার্কের ইনপুট। হাইটেক পার্ককে সাপোর্ট দিতেই এই বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলেই চাকরি হেঁটে হেঁটে চলে আসবে চাকরি প্রার্থীর কাছে। কর্মক্ষেত্রও প্রস্তুত। শিক্ষার্থীর চিরচেনা ক্যাম্পাস হবে হাইটেক পার্ক। এমন একটি স্বপ্ন নিয়েই গড়ে উঠছে দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, ব্যবস্থাপনাসহ সব কাজের জন্য প্রযুক্তি নির্ভর এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে মাল্টিডিসিপ্লিনারী ও গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিংকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা কোনো কারণে ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারলে (যৌক্তিক কারণে) স্কাইপের মাধ্যমে সরাসরি ঘরে বসে বা দেশ-বিদেশের যে কোনো জায়গা থেকে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়াও বিশ্বের নামাজাদা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসও অনলাইনের মাধ্যমে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে করানো হবে। ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফারেরও ব্যবস্থা থাকবে। পরিপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে। বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও একই পদ্ধতিতে ভর্তি হতে হবে। সূত্র মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যতে কোটা পদ্ধতির বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, চলতি বছর হাইটেক পার্কের সাত একর জমিতে ফোর টায়ার বা চতুর্থ স্তরের জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন করার লক্ষ্যে ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ডাটা সেন্টার নির্মাণে ১ হাজার ১৯৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। অবশিষ্ট ৩১৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow