Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৫
কৃষি সংবাদ
নওগাঁয় মালটা চাষে চমক
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় মালটা চাষে চমক

নওগাঁয় মালটা ফল চাষে চমক সৃষ্টি হয়েছে। চাকরির পাশাপাশি শখের বসে আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক নিজ বাড়িতে মালটা চাষ করে এই চমক সৃষ্টি করেছেন।

তিনি জানান, মালটা চাষে একদিকে যেমন বাড়ির সবার পুষ্টির চাহিদা মেটানো যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি ফল বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের পাশাপাশি ২০১২ সালে উপজেলার মিরাপুর নামক নার্সারি থেকে একটি মালটা ফলের গাছ এনে রোপণ করেন। চলতি বছর ওই গাছে প্রায় ৮০/৮৫টি মালটা ধরেছে। প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয়রা এই ফল দেখতে আসেন। এই আবু বক্কর সিদ্দিক বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগে দিনাজপুর জেলার হিলিতে কর্মরত। ফল গাছের প্রতি ভালোবাসা ও নিজ প্রয়োজনে চাকরির পাশাপাশি ২০০৪ সালের দিকে বাড়ির মাত্র ২৭ শতক জায়গায় প্রথমে উন্নত জাতের দেশীয় আম, লিচু, জাম, আমড়া, কামরাঙ্গা, পেঁপে, বেদেনা, পেয়ারা, কাঁঠাল, কলা গাছ রোপণ করেন। কয়েক বছরের মধ্যে এসব গাছ থেকে ফল পেতে শুরু করেন। এ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ফল চাষের সংবাদ পড়ে ২০১০ সালের দিকে আপেল, আঙ্গুর, কমলা, চেরি ফল, জামরুল, গোলাপজাম, সফেদা, পাম ফলের গাছ রোপণ করেন। সঙ্গে একটা মালটা গাছও রোপণ করেন। ওই মালটা গাছে এখন ৮০/৮৫টি মালটা ফল ধরেছে। এ ছাড়াও তার বাগানে নারিকেল, সুপারি, মসলা গাছসহ প্রায় অর্ধশত ফলের গাছ রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রথম গাছে মালটা প্রাপ্তির পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বড় কিছু করার স্বপ্ন তৈরি হয়। এখন আমার শুধু স্বপ্ন পূরণের পালা। আমার মতো স্থানীয় ধনী ও মাঝারি কৃষকরা এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে দেশে চাহিদা মেটানোর পরও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। প্রথম গাছে মালটা ফল ধরার পর থেকে নওগাঁয় এই ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয়রা এই ফল দেখতে আসেন এবং কীভাবে চাষ করা যায় এই পরামর্শ নিয়ে যান। আম, লিচু, জাম, আমড়া, কামরাঙ্গা, পেঁপে, পেয়ারা, কাঁঠাল ফলের বাড়ির চাহিদা মিটিয়েও প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার টাকার বিক্রি করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়াও আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে অন্যান্য ফল চাষে সাফল্য মিলবে বলে আশা করছি। উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফি উদ্দিন আহম্মেদ জানান, এই এলাকায় এটাই প্রথম মালটা চাষ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাওছার আহম্মেদ বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক মালটা চাষে সফল হওয়ায় নওগাঁ অঞ্চলে মালটা চাষের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার মাটি মালটা চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী এবং এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মালটা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow