Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৪
সানজিদার লাশ মিলল ১৯ ঘণ্টা পর
নিজস্ব প্রতিবেদক
সানজিদার লাশ মিলল ১৯ ঘণ্টা পর

নিখোঁজের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর রাজধানীর মহাখালী তালতলার দক্ষিণ ঝিলপাড় থেকে ছয় বছরের শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। এর আগে বাসস্ট্যান্ডের পাশের তালতলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করার সময় পরিত্যক্ত ঝিলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশুটি। ঝিলপাড়ের যে স্থানে সে পড়েছিল এর থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝিলের চারপাশে দেয়াল তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল সকালে দ্বিতীয় দিনের অভিযানের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। ঝিলপাড়ের শেষ মাথায় আবর্জনার নিচে ডুবুরি হুমায়ুন শিশুটির মৃতদেহ খুঁজে পান। জানা গেছে, বাবা শাহ আলম ও মা রুবি আক্তারের সঙ্গে মহাখালীর দক্ষিণপাড়ার ৭৩/১২ নম্বর বাড়িতে থাকত শিশু সানজিদা। শাহ আলম পেশায় ভ্যানচালক। শাহ আলম ও রুবি দম্পতির সন্তানদের মধ্যে সানজিদা সবার ছোট। বুধবার বেলা আনুমানিক ২টায় তামিম ও আরেক শিশুবন্ধুর সঙ্গে ওই ঝিলপাড়ের পাশে খেলা করতে যায় সানজিদা। একপর্যায়ে ঝিলের পানিতে পড়ে যায় সে। ঘটনার পরপরই তার বন্ধুরা বিষয়টি সানজিদার বাবা-মাকে জানায়। খবর পেয়ে তার বাবা-মা ও স্থানীয় যুবকরা বেশ কিছুক্ষণ খালে নেমে খোঁজাখুঁজি করেন। এর কিছুক্ষণ পরই খালের পানিতে সানজিদার জুতা ভেসে ওঠে। পরে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থলে এসে প্রথম দফায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। আবর্জনা ও স্রোতের কারণে সমস্যা হওয়ায় রাত ১টায় সেই উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। গতকাল সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও ঝিলের প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের চারপাশে অভিযান শুরু করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেই উদ্ধার অভিযানে সফলতা পায় ফায়ার সার্ভিস। এর আগে এ ঝিলে একাধিক শিশু পড়ার ঘটনা ঘটলেও এই প্রথমবার মৃত্যুতে অনেকটা শঙ্কিত এলাকাবাসী। খালের দুই পাশে প্রাচীর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। শাহ আলম বলেন, সানজিদার সঙ্গে খেলছিল তামিম নামে এক শিশু। সানজিদা ঝিলের পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তামিমই তাদের খবর দেয়। এরপর ঝিলে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, ‘বুধবার বেলা ৩টা ৮ মিনিটে খবর পাই ওই ঝিলে একটি শিশু পড়ে গেছে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের তিনজন ডুবুরিসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর স্থগিত করে পরদিন ভোর ৬টা থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ’ স্থানীয়রা জানান, পরিবারের সঙ্গে যে বাসায় সানজিদা থাকত তা ঘেঁষে আরজতপাড়া থেকে নিকেতন পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পয়োনিষ্কাশন ঝিল। ঝিলটির প্রস্থ প্রায় ১০ ফুট। সেখানে পড়ে যায় শিশু সানজিদা। আর ঝিলটিতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের পেছন থেকে নিকেতন পর্যন্ত কোনো ঢাকনা নেই। ঝিলটিতে ঢাকনা থাকলে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটত না। ২০১২ সালের শেষ দিকে ঝিলটি তৈরির সময় বলা হয়েছিল, ঢাকনা দেওয়া হবে। কিন্তু আজও তা দেওয়া হয়নি। আর এখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রথম নয়। দেড় বছরে অন্তত পাঁচজন এই ঝিলে পড়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow