Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৫
ছাত্রলীগ কমিটিতে শিবির মামলার আসামি, অছাত্র
১৫১ সদস্যের রংপুর মহানগর কমিটি
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত  প্রধান আসামি, ছাত্রশিবিরের ক্যাডার, ছিনতাইয়ের  অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অর্থের বিনিময়ে শিবির ক্যাডার, ছিনতাই মামলার আসামি, অছাত্র ও বিবাহিতদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে পুনরায় কমিটি ঘোষণার দাবি জানান ওই নেতারা। দলীয় সূত্রে

জানা গেছে, গত ৩০ মে ১৫১ সদস্যের রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা হাতে পাওয়ার পর সদস্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ছাত্রত্ব শেষ করেছেন বহু আগে। তবে ছাত্র পরিচয় দিতে অনেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন ২০১১ সালে ওএমএসের ডিলার ছিলেন। ওই বছরের ২০ এপ্রিল ৬৪ বস্তা চাল নগরীর মাহিগঞ্জে চাল ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান ফাত্তার কাছে কালোবাজারে বিক্রি করতে গিয়ে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়ে। তত্কালীন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদেমুল ইসলাম বাদী হয়ে শেখ আসিফকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দিয়েছে পুলিশ। মামলাটি বিচারাধীন। বর্তমান সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল মতিন জানান, কালোবাজারে ওএমএসের চাল বিক্রির অভিযোগে শেখ আসিফের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। সহসভাপতি পদে পাওয়া ছাত্রশিবির ক্যাডার এনামুল হাসান নয়নের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলামারী উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার বালাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি করছেন। কয়েক মাস আগে বিয়েও করেছেন তিনি। নয়ন ২০১২ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের সহসভাপতি ছিলেন। তার নেতৃত্বে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কাননসহ একাধিক নেতা-কর্মীকে মারধর করেন। কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তত্কালীন সভাপতি রাফিউর রহমান রাফি বলেন, শিবির ক্যাডার নয়নের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালে তাকে পিটিয়ে কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হয়। সেই শিবির ক্যাডার এখন ছাত্রলীগ নেতা। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই বছর আগে জেলা ও কারমাইকেল কলেজ শাখা কমিটি থেকে বহিষ্কৃত জাভেদ আহমেদকে মহানগর কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কানন বলেন, জাভেদ কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য থাকাকালে ২০১৪ সালের ১৩ মে দিনদুপুরে ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনতাই করেন। এ অপরাধে ১৪ মে তাকে কারমাইকেল কলেজ শাখা থেকে এবং ১৭ মে জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন কাউনিয়া থানা পুলিশ চোরাই মোটরসাইকেলসহ জাভেদকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মামলাও করে পুলিশ। শিবির নেতা এনামুল হক নয়ন রংপুর জেলা কমিটিতে স্থান পেতে ৬০-৭০ হাজার টাকা নিয়ে অনেক দিন আমার পেছনে ঘুরেছে। শিবির ক্যাডার হওয়ার কারণে তাকে নেওয়া হয়নি। নয়ন ও জাভেদকে মহানগর কমিটিতে স্থান দিয়ে ছাত্রলীগের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ইট-বালু কেনাবেচা করেন আজিজুল ইসলাম আজিজ। ছাত্রত্ব নেই অনেকদিন। তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। দফতর সম্পাদক শাফিউর রহমান শাফি কাউনিয়া উপজেলার বেইলি ব্রিজ কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শাখা জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বিবাহিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ পেয়েছেন সহ-সভাপতি শওকত হোসেন সৈকত, জয়ন্ত কুমার।

জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি শফিউর রহমান স্বাধীন বলেন, সাংগঠনিক ছেলে বলে জাভেদকে কমিটিতে রাখা রয়েছে। এনামুল হাসান নয়ন শিবির করতেন কিনা জানা নেই। তবে নয়ন ছাত্রলীগ করতেন বলে মহানগর আওয়ামী লীগের উপ সম্পাদক আবদুল্লাহ খান নান্নু নিশ্চিত করায় তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। তথ্য গোপন করে যারা কমিটিতে ঢুকেছে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow