Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৭
বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন থামছেই না
পঞ্চগড়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি বাড়ছে ভূমিকম্প ঝুঁকি
মাহমুদ আজহার ও সরকার হায়দার

বোমা মেশিনে পঞ্চগড়ে পাথর উত্তোলন থামছেই না। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশে রাতের আঁধারে এখনো বোমা মেশিনে নির্বিঘ্নে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ও হচ্ছে। জেলা ও থানা প্রশাসনের বড় অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও কিছু প্রভাবশালী

রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। জেলার আইনশৃঙ্খলার সভায় প্রতি মাসে বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে আলোচনাও হয়। কিন্তু পাথর উত্তোলন বন্ধ হয় না।

জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের শিবচণ্ডী, জয়গোনজোত, কালিয়ামণি গ্রামের করতোয়া নদী সংলগ্ন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়, ঝালেঙ্গিগছ, ধানশুকা গ্রামের করতোয়া নদী সংলগ্ন এলাকা, পাথরঘাটা, আঠারখারী, সুরিগছ, শেকগছ, ময়নাগুড়ি গ্রামের বিভিন্ন সমতলভূমির পাথরের গর্তে, ভজনপুর ইউনিয়নের বোগলাহাগী, চোয়ামতি, ফকিরহাট, ভাঙ্গিপাড়া, বাসবারী, ভদ্রেশর, কুকুরমুহা, গনাগছ গ্রামের করতোয়া নদী সংলগ্ন খাসজমি ও পার্শ্ববর্তী সমতল এলাকায়, একই ইউনিয়নের খনিয়াগছ, গিতালগছ, ডাক্তারপাড়া, ঘগারখাল, কাউরগছ, ডাঙ্গি গ্রামের বিভিন্ন সমতলভূমির পাথরের গর্তে, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের হারাদিঘি, বালাবাড়ি, শিলাইগুড়ি, কালদাসপাড়া বালাবাড়ি, কাটাপাড়া গ্রামের ডাহুক নদীসংলগ্ন এলাকায়, শালবাহান হাট ইউনিয়নের পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া মহাসড়ক সংলগ্ন মাঝিপাড়া গুচ্ছগ্রাম হতে ৪ কিলোমিটার উত্তরে লোহাকাচি গ্রাম পর্যন্ত ডাহুক নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় রাত-দিন বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মো. বেলায়েত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের একার পক্ষে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। পুলিশের যেভাবে সহযোগিতা পাওয়ার কথা, আমরা সেভাবে পাচ্ছি না। তবে বোমা মেশিন মালিকদের তালিকা  তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলার গর্তগুলো দেখলে খুব খারাপ লাগে। তেঁতুলিয়ার ভূমিতে যেন মারাত্মক ঘা’য়ের সৃষ্টি হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহিন জানান, এভাবে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে আমাদের উপজেলায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, একশ্রেণির প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী রাতের অন্ধকারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তুলছে। কেউ কেউ আবার দিনের আলোতেও পাথর তুলছে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ শ্রমিক নেতারাও জড়িয়ে পড়েছেন এ কাজে। প্রকৃতি বিধ্বংসী এই তত্পরতায় তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক বোমা মেশিন চলছে। বোমা মেশিনকে ঘিরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ঘুষবাণিজ্য হচ্ছে। এই ঘুষ চলে যাচ্ছে পুলিশসহ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পকেটে। অবৈধ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাটির গভীর হতে পাথর উত্তোলনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত এক বছর ধরে এই বোমা মেশিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে আসছে কিছু অসাধু মহল। এক পাথর ব্যবসায়ী জানান, একটি মেশিন ১২ ঘণ্টা চালাতে পারলে ৩ হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করা যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। আর এতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে সময় ভালো না তাই ১২ ঘণ্টা মেশিন চালাতে হচ্ছে। এর জন্য প্রতি মেশিন থেকে পুলিশ, কলবাহিনী এবং নেতাদের জন্য প্রতি রাতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বোমা মেশিন বন্ধের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। অচিরেই যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র জানান, পুলিশের নাম করে অনেকে চাঁদাবাজি করছে। বোমা মেশিন নিয়ে আমরা তত্পর রয়েছি। ইতিমধ্যে অনেক বোমা মেশিন আটক করেছি। তবে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় পুলিশের একার পক্ষে বোমা মেশিন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow