Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২২:৫৮
রাজধানীর আবাসিক এলাকায় ১৬২৫ অবৈধ স্থাপনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার ৬২৫টি অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আবাসিক এলাকার প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনা হবে। গতকাল সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ-সংক্রান্ত সভা শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণপূর্তমন্ত্রী জানান, এক হাজার ৬২৫টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে উত্তরায় ২১৫টি, মিরপুরে ৫৮০টি, গুলশান-বারিধারায় ৫৫২টি, ধানমন্ডি-লালবাগ এলাকায় ১৭৩টি এবং মতিঝিল-খিলগাঁওয়ে ১০৫টি স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মালিক রাজউকের লিজশর্ত ভঙ্গ করে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে আবাসিক এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকার কোনো কোনো সড়ক বা এভিনিউকে বাণিজ্যিক হিসেবে পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ এসব এলাকায় অনেক বাণিজ্যিক ভবনের স্পেস ফাঁকা পড়ে আছে। এদিকে সভা সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি হামলার শিকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিটি অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। এই প্লটে নার্সিং হোম করার জন্য ১৯৭৯ সালে মালিককে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালে নার্সিং হোমের নির্মাণকাজ শুরুও হয়। নার্সিং হোমের নামে বরাদ্দ করা প্লটের একটি অংশে হলি আর্টিজান বেকারি গড়ে তোলা হয়। কিন্তু এই রেস্টুরেন্ট বা বেকারি করার জন্য কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত স্থাপনার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হবে। এ ছাড়া সভাসূত্র জানায়, বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত ৩৩৩টি র‌্যাম্প ও ২৩৬টি কার পার্কিং স্পেসের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. খন্দকার আখতারুজ্জামান, রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আরিফ-উর-রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

up-arrow