Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৭
আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার উত্খাত ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় গতকাল দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মানিক লাল দাশ বাদী হয়ে নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী রাইজিং স্টিল মিল লিমিটেডের চেয়ারম্যান জামিলা নাজনিন মাওলা, তার ছোট ভাই রাইজিং স্টিল মিল লিমিটেডের এমডি আমজাদ হোসেন চৌধুরী, রাইজিং স্টিল মিল লিমিটেডের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও এবি ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বদরুল হক খান ও এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরই আসামি জসিম উদ্দিন ও বদরুল হক খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুদকের চট্টগ্রামের পরিচালক আবদুল আজিজ ভুইয়া জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে এবি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ঋণ আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসলাম চৌধুরী ও দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, আসলাম চৌধুরীর পারিবারিক মালিকানাধীন রাইজিং স্টিল লিমিটেড স্ক্র্যাপ জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এবি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে তিনটি এলসির বিপরীতে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৫ টাকা ঋণ নেয়। ২০১০ পর প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দামে পুরনো জাহাজ আমদানি করে তা বিক্রি করলেও ব্যাংকের ঋণ পুরোটা পরিশোধ করেনি। ব্যাংক ২০ কোটি ৮২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পাওনা থাকার পরও ২০১১ সালে আরও একটি এলসির মাধ্যমে রাইজিং স্টিলকে ফের জাহাজ আমদানির সুযোগ দেয়। এ ছাড়া ২০১২ সালে ১৬৫ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা ও ২০১৩ সালে ১৩৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার দুটি এলসির বিপরীতে আরও দুটি জাহাজ আমদানি করে তা বাজারে বিক্রি করলেও কোনো টাকা পরিশোধ করেনি। বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির দুটি দলিল ও তিনটি চেক জামানত হিসেবে দেয়। যার জামিনদার ছিলেন আসলাম চৌধুরী নিজেই। মামলা বাদী জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে ঢাকায় গ্রেফতার হন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কমপক্ষে ২৫টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে চেক প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। আসলাম চৌধুরী বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

up-arrow