Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৫
এখনো সরলো না ট্যানারি
জরিমানা কমিয়ে দিনে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ আপিল বিভাগে
নিজস্ব প্রতিবেদক
এখনো সরলো না ট্যানারি

ঢাকার পরিবেশের জন্য ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল ১৫ বছর আগে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে টালবাহানা। কারাখানা সাভারে সরিয়ে নিতে নানা সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা ও বারবার সময় বাড়িছে সরকার। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। গত এক বছর আগে হাইকোর্ট থেকে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হলেও কারখানা সরাতে সময়ক্ষেপণ চলছেই। সর্বশেষ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীর আলটিমেটামও মানেনি ট্যানারি মালিকরা। এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে ট্যানারিগুলোকে দিনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গতকাল আপিল বিভাগ সেই জরিমানা কমিয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তবুও কবে এই ১৫৪টি কারখানা সরানো হবে তা জানাননি ট্যানারি মালিকরা।

জানা যায়, হাইকোর্ট গত ১৬ জুন ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের আপিলের নিষ্পত্তি করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন, হাজারীবাগ থেকে  ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারে না সরানো পর্যন্ত মালিকদের এখন থেকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অনুদান হিসেবে এই অর্থের অর্ধেক সরকারকে বাংলাদেশ লিভার ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও মেহেদী হাসান চৌধুরী। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এর আগে, ২০০১ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আবারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তরিত না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। পরে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্প সচিব। এরপরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ট্যানারি স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ফের আদালত অবমাননার অভিযোগে আরও একটি আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট হাইকোর্ট দশ কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। পরে গত ১৩ এপ্রিল হাজারীবাগে এখনো যেসব ট্যানারি রয়েছে শিল্প সচিবকে তাদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশে শিল্প সচিবের পক্ষ থেকে আদালতে ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা দাখিল করা হয়। এর মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি স্থানান্তর করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow