Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৭
রানা প্লাজা ধস
রানাসহ ৪১ জনের বিচার শুরু
আদালত প্রতিবেদক
রানাসহ ৪১ জনের বিচার শুরু

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম কুদ্দুস জামান এ আদেশ দেন।

আদেশে পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর ফলে তিন বছর পর এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। এ বিষয়ে আদালতের পিপি খন্দকার আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, আসামিদের মধ্যে ৩৮ জনকে হত্যা এবং বাকিদের বিরুদ্ধে অন্যান্য ধারায় অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর আগে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ কারাবন্দী সাত আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা ২৭ আসামিও আদালতে হাজির হন। পরে উপস্থিত মোট ৩৪ আসামি বিচারকের প্রশ্নের জবাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেন। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ১৩৫ জন, আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক। পরে ভবনধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রথমে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র অভিযোগে একটি মামলা করেন সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ২১ জনকে এজাহারে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে আসামি করে তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মৃত্যু ঘটানোসহ দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭, ৪৬৫, ৪৭১, ২১২, ১১৪, ১০৯, ৩৪ ধারায় বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর গত বছর ১ জুন ওই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, রানা প্লাজায় ফাটল ধরার পর ঝুঁকি জেনেও শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কাজ না করলে চাকরিচ্যুতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এটা আসলে ‘ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা’। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মঞ্জুরি আদেশ না থাকায় একাধিকবার শুনানি পেছানো হয়। পরে ওই অনুমোদন ছাড়াই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত গত ২১ ডিসেম্বর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। মামলার আসামিরা হলেন ভবন মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আবদুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো. সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, অনিল দাস, শাহ আলম, আবুল হাসান, মোহাম্মদ আলী খান ও রাকিবুল হাসান। এ ছাড়া সাভার পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. আবদুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক (সাধারণ, ঢাকা বিভাগ) মো. জামশেদুর রহমান, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিদর্শক (প্রকৌশল) মো. ইউসুফ আলী, ঢাকা বিভাগের পরিদর্শক (প্রকৌশল) মো. সহিদুল ইসলাম, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, ইতার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, মো. আতাউর রহমান, মো. আবদুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কন্ট্রাক্টর, মো. আবদুল হামিদ, আবদুল মজিদ, মো. আমিনুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, মো. ইউসুফ আলী ও তসলিম এ মামলার আসামি। এদের মধ্যে আবদুুস সামাদ, জামশেদুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, ইউসুফ আলী ও সহিদুল ইসলাম সরকারি কর্মকর্তা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow