Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২১
নজরদারি বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা
নিজামুল হক বিপুল
নজরদারি বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে ঢাকায়। ছবিটি রাজধানীর আইএসডি স্কুল থেকে তোলা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জঙ্গি তত্পরতা থেকে মুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারির মধ্যে আনার নানা উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার পর মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। ওই দুটি ঘটনায় নিহত হামলাকারীদের প্রায় সবাই দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে জঙ্গি বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করার চেষ্টা করছি। এজন্য ইতিমধ্যেই নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আপনারা হয়তো দেখেছেন, আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সেমিনার করেছি। যেখানে পরিচালনা বোর্ডের সদস্য থেকে শুরু করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, অধ্যাপক, অভিভাবক সবাই উপস্থিত ছিলেন। ’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাইকে বলেছি আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা কী করছে, নিয়মিত ক্লাসে আসছে কিনা, শিক্ষকরা কী পাঠদান করছেন— এসব নজরদারিতে আনতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী টানা ১০ দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেছি। ’ শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারিতে আনার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা একেবারেই কমে আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি হামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ উঠে আসার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল ২১ জুলাই রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, কলেজ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অধ্যাপকদের নিয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে ২৩ জুলাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবং ২৪ জুলাই দেশের মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সভা করবে মন্ত্রণালয়। এজন্য মাদ্রাসা বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব সভায় মূলত সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার চিত্র তুলে ধরে কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জঙ্গিমুক্ত করা যায়, শিক্ষার্থীদের কীভাবে জঙ্গি কার্যক্রম থেকে নিরুৎসাহিত করা যায়— এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এসব সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে, কীভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানকে জঙ্গি কার্যক্রমের আওতামুক্ত রাখা যায়। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক সবাইকে কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নজরদারিতে আসার পর যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ওই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্টভাবে জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করার কিংবা জঙ্গি তত্পরতা চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী টানা ১০ দিন ক্লাসে না এলে কিংবা অনুপস্থিত থাকলে ওই শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, কোনো অপতত্পরতা কিংবা জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত কিনা— এসব তথ্য জানতে প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের আরও জোরালো মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করেন মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow