Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৩
প্রকৃতি
থানা কম্পাউন্ড জুড়ে পাখির অভয়ারণ্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
থানা কম্পাউন্ড জুড়ে পাখির অভয়ারণ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা কম্পাউন্ড। কড়া পুলিশ প্রহরা, আর শিকারিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ। এই সুবাদে পাখির দল আবাস গড়েছে গাছের পর গাছ জুড়ে। এমন অভয়ারণ্য এখন বর্ষাকালীন পাখির কলতানে মুখর। চলতি মৌসুমে পানকৌড়ি, বালি হাঁস, পান্তামুখি, ডাহুক, মাছরাঙ্গা ও বিভিন্ন প্রজাতির বকসহ অসংখ্য পাখি আবাসস্থল বানিয়েছে থানা কম্পাউন্ডের অন্তত ২০টি গাছে। হাওর চষে আহার শেষে থানার ভিতরের গাছগুলোকেই আশ্রয়স্থল মনে করেছে পাখিরা। কেউ যাতে পাখির ক্ষতি না করতে পারে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে পাখি সুরক্ষায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলায় তিতাস, লঙ্গন, বেমালিয়া, খরাতি ও ধলেশ্বরীসহ পাঁচটি নদী এবং শাপলা, আকাশি, মেদীর হাওরসহ অন্তত ১৯টি বিল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব মুক্ত জলমহালে মাছ, ব্যাঙ এবং শামুকসহ নানান প্রাকৃতিক খাবার অঢেল পরিমাণে থাকে। ফলে এসব জলাশয়ে অবাধ বিচরণ করে বর্ষার পাখিরা। গত এক দশক ধরে পাখিরা নাসিরনগর থানা প্রাঙ্গণের গাছগুলোতে আবাসস্থল তৈরি করেছে। সম্প্র্রতি নবনির্মিত থানা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কারণে বেশ কিছু বড় গাছ কেটে ফেলায় এদের আবাসস্থল কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, বর্ষার এই সময়টাতে পানকৌড়ি, বালি হাঁস, পান্তামুখি, ডাহুক, মাছরাঙ্গা ও বিভিন্ন প্রজাতির বক হাওরে চষে বেড়ায়। এসব পাখিই একটি অংশ নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে উপজেলা সদরে অবস্থিত থানার ভিতরের গাছগুলোকে বেছে নিয়েছে। আর থানা অভ্যন্তরের পুলিশ সদস্যরাও এসব পাখির দেখাশুনা করে। তিনি আরও জানান, একসময় এলাকার বিভিন্ন বাড়ির গাছে পাখি বসা শুরু করে। এলাকাবাসী পাখিগুলোকে শিকারের চেষ্টা চালায়।

পরে ধীরে ধীরে পাখিগুলো থানার ভিতরের গাছগুলোতে বসতে শুরু করে। এরপর পাখিগুলোকে যাতে কেউ আক্রমণ না করে সেজন্য থানার পক্ষ  থেকে প্রচারণা চালানো হয়। কেউ বিরক্ত করে না বলে পাখিগুলো নিরাপদ একটা পরিবেশ পায়। ফলে থানা কম্পাউন্ডটি পাখির অভয়াশ্রমে পরিণত হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বজলুর রশীদ জানান, মেঘনা এবং তিতাসের সংযোগস্থলের পাশপাশি হাওর বেষ্টিত নাসিরনগরে অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। সেখানে প্রাকৃতিক খাবারের ভালো উৎস থাকায় পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে। পাখিদের সুরক্ষার জন্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে আসতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow