Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ০২:৪২
নয়া দিল্লির চিঠি
ঢাকার সঙ্গে ‘বিদ্যুৎ সমন্বয়’কে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি
ঋতুপর্ণা রায়

তিস্তা চুক্তি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি বাড়তি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে গেছে ঠিকই। কবে সেই চুক্তি সম্পাদন হবে সে ব্যাপারে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, এখনো তা স্পষ্ট নয়।

কিন্তু পাশাপাশি নিঃশব্দে দুই দেশ নিজেদের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সমন্বয় ক্রমে বাড়িয়ে নিয়ে চলেছে। সাউথ ব্লক (ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মনে করে, তিস্তা চুক্তি যবেই হোক, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং সরকারি নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আস্থা অর্জনের প্রশ্নে বিদ্যুতের এই সমন্বয় একটা বড় ভূমিকা নিচ্ছে। ভারতের এক বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ প্রবল বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। এ মুহূর্তে সে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি, যা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই-পঞ্চমাংশ এখনো বিদ্যুতের সুফল থেকে বঞ্চিত। ভারত এ ব্যাপারে যতটা সম্ভব সহায়তা করতে চায়। ’ গত বছর জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় নয়াদিল্লি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ৬০০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ দেওয়ার। পরে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত হেভি ইলেকট্রিক খুলনায় ১৬০ কোটি ডলারের বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করে। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, এখানেও আসলে চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চাইছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় পরিকাঠামো ক্ষেত্রে হৈহৈ করে ঢুকে পড়ছে বেইজিং। ভেলের প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর কথা ভেবেও করা হয়েছে সহযোগিতার পাশাপাশি। এ সহযোগিতার প্রশ্নেই এবার নয়াদিল্লি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্বৃত্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ সমঝোতার প্রশ্নে নতুন পথে হাঁটতে চাইছে। সরকারি সূত্রের খবর, এ মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন রয়েছে তার ক্ষমতা দ্বিগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ যোগাযোগ বাড়াতে একটি তৃতীয় লাইন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বহরমপুর ভেড়ামারা লাইনের ক্ষমতা বাড়িয়ে ১ হাজার মেগাওয়াট করার কথা ভাবা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরা-কুমিল্লা লাইনকেও বাড়িয়ে ২০০ মেগাওয়াট করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়াও একটি তৃতীয় লাইন পাতার কথা ভাবা হচ্ছে আসামের বনগাইগাঁও-বিহার হয়ে বাংলাদেশে। ২০০০ মেগাওয়াট হাই ভোল্টেজ ডিরেক্ট কারেন্ট লাইনের চিন্তাভাবনাও প্রাথমিকভাবে দুই দেশের বিদ্যুৎ দফতর করছে। নতুন লাইনটি সম্ভবত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ টানবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সমীক্ষা অনুযায়ী ইন্টারকানেকটেড নেটওয়ার্ক অপারেশনাল এফিশিয়েন্সি বা দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভারতীয় সূত্রের বক্তব্য, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ শতাংশ বেশি। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow