Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩০
দুই তরুণের যন্ত্রমানব রক্ষা করবে বিপদগ্রস্ত জীবন
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
দুই তরুণের যন্ত্রমানব রক্ষা করবে বিপদগ্রস্ত জীবন
দুই তরুণের উদ্ভাবিত নতুন যন্ত্র —বাংলাদেশ প্রতিদিন

মো. রাহাত খান হৃদয় ও মো. মারুফ আবেদীন। দুজনই সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ছাত্র। ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে গার্মেন্টকর্মীদের প্রাণহানি ও পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের করুণ মৃত্যু নাড়া দেয় তাদের। দুই যুবক খুঁজতে থাকেন বিপদগ্রস্ত জীবন রক্ষার    প্রযুক্তি।

অবশেষে তারা সফল হয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন বিপদগ্রস্ত জীবন রক্ষায় সহায়তাকারী ‘যন্ত্রমানব’। ধসে পড়া ভবনের নিচে বা গভীর পাইপে পড়া জীবন রক্ষায় এ যন্ত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস হৃদয় ও মারুফের। উদ্ভাবক দুই শিক্ষার্থী জানান, জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রমানব বা রোবটটি অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের গ্লাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী মোটর। রোবটটির দুই পাশে দুটি সাহায্যকারী ট্যাঙ্ক কাঠামো থাকায় এটি সহজে ওপরে ও নিচে যেতে পারবে। শক্ত কাঠামো দিয়ে রোবটটি তৈরি হওয়ায় তা সহজে ভাঙবেও না। জীবন রক্ষাকারী রোবটটিতে চারটি সাহায্যকারী পা যুক্ত করা হয়েছে। এই পাগুলো রোবটটিকে পাইপে প্রবেশ করতে এবং পাইপের ওপর-নিচে চলাচল করতে সাহায্য করবে। চারটি মোটর, অক্টোপাস গ্রিপযুক্ত চাকা আর পাগুলো চলাচলের জন্য পাইপের আকৃতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের আকৃতি পরিবর্তন করতে পারবে। উদ্ভাবকরা জানান, রোবটটি যে কোনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কিংবা গর্তে পড়ে থাকা মানুষ জীবিত নাকি মৃত, মানুষের সঠিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এসব জানাতে সক্ষম হবে। এ জন্য রোবটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ইনফ্রারেড সিস্টেম। যে কারণে দূর থেকেও এটি মানুষের অবস্থার সঠিক তথ্য দিতে পারবে। রোবটটিতে রয়েছে সাতটি সেন্সর। এর মাধ্যমে গর্তের গভীরতা নির্ণয়, বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিমাপ, বাতাসে মিথেনের মাত্রা পরিমাপ, ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ, আগুনের মাত্রা পরিমাপ ও নির্দিষ্ট স্থানের তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে। রোবটটির সঙ্গে লাগানো শক্তিশালী ক্যামেরা দুর্ঘটনাস্থল বা ধ্বংসস্তূপের রিয়েল টাইম ছবি বা ভিডিও দিতে পারবে। অন্ধকার হলে রোবটটি আলো বিকিরণও করবে। এতে করে ধ্বংসস্তূপের ভিতরের প্রকৃত অবস্থা বুঝে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটাই সহজ হবে। এ ছাড়া রোবটটিতে একটি আর্ম বা বাহু রয়েছে। এর সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া কিংবা গর্তে পড়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ ছাড়াও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোনো কিছু সরানোর কাজও করানো যাবে। উদ্ভাবক রাহাত ও মারুফ বলেন, ‘তিনটি প্রসেসরের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত তারবিহীন রোবটটি বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একটি নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মাধ্যমে ১৩ হাজার ফুট দূর থেকেও রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাঁচটি পাওয়ার সরবরাহ ইউনিট রোবটটিকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা চলতে সাহায্য করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow