Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৫
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভায় আইভী ইস্যুতে উত্তেজনা
মেয়র পদে আনোয়ারকে চায় তৃণমূল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘ওয়ান-ইলেভেন ও বিএনপি-জামায়াতের দোসর’ আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তারা আইভীর ১০ বছরের দুরাচারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, তিনি আমাদের ‘কুকুর’ বলে গালি দিয়েছেন তাতে দুঃখ নেই, কিন্তু তিনি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বহুবার বিষোদগার করেছেন। আমরা এসব আর বরদাস্ত করব না। ক্ষুব্ধ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আগামী সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।

আনোয়ার হোসেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার সভাপতিত্বে গতকাল বাংলভবন কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সংগঠনের মুলতবি সভায় তার প্রতি এই সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। সভায় বক্তারা মেয়র আইভীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন। একপর্যায়ে সভাস্থলে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন সভাপতি সবাইকে ধৈর্যধারণ করতে ও শান্ত থাকতে আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান এমপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের আহ্বায়ক এনাজুর রহমান চৌধুরী, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এম এ রশিদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন, সহসভাপতি নূরুল ইসলাম চৌধুরী, রবিউল হোসেন, সাধারণ যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, আহসান হাবিব, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জিএম আরাফাত, মাহমুদা মালা, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি আসিফ হাসান মানু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নিজামউদ্দিন আহম্মেদ, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, নাসিক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনু, ফয়সাল মো. সাগর, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, মোহাম্মদ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, আলী হোসেন আলা, কামরুল হাসান মুন্না, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর খোদেজা খানম নাছরিন, ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ।

শামীম ওসমান এমপি তার ভাষণে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে মেয়র হয়ে আবার দল ও নেতা-কর্মীদের অবজ্ঞা-অবহেলা করা হবে, দুর্নীতি করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে অপমানিত করা হবে, আমরা তা হতে দেব না। বক্তৃতার একপর্যায়ে শামীম ওসমান দুটি দৈনিক পত্রিকার কাটিং দেখিয়ে বলেন, প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে আইভী আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘একটি-দুটি পরিবারের পাশে থাকলে হবে না, জনগণের পাশে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি মনে করে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গডফাদার থাকলেই তাদের কাজ হবে। এই ভাবনা ঠিক না। সাধারণ মানুষ জেগেছে, যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে’। যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখিয়ে তিনি বলেন, আইভী ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বলেছেন, ‘এরশাদকে নিয়ে দুই নেত্রী যে টানাহেঁচড়া খেলায় মেতে উঠেছেন তা বন্ধ হওয়া উচিত। দুই নেত্রী দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছেন’। ওই বছরই আইভী অরেকটি সভায় বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার খুনিদের পৃষ্ঠপোষক’। শামীম ওসমান বলেন, আইভী মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রথম বক্তব্যেই বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন আর শেখ হাসিনাও বিশ্বাস করেন বলে আমি বিশ্বাস করতে চাই। সাদেক হোসেন খোকাকে সরিয়ে সরকার অগণতান্ত্রিক কাজ করেছে। জয়বাংলা স্লোগানকে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করেছে’। শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনার হৃদয় সমুদ্রের মতো, তিনি একজন মা, তাই তিনি ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের মাকে যদি কেউ গালি দেয় তাহলে সন্তান হয়ে আমরা তাকে ক্ষমা করতে পারি না। আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণার পর আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০০১ সালের পর বৈরী পরিস্থিতিতে শামীম ওসমান দেশ ত্যাগ করলেও তার বিশাল কর্মী বাহিনীসহ আমরা আইভীকে জয়ী করেছিলাম। কিন্তু এরপর কখনো আইভীকে আমি ও আমরা দলীয় কাজে আনতে পারিনি। তিনি সবসময়ই শামীম ওসমানের মতো সংগঠকের বিরুদ্ধে কাজ করে দলের ক্ষতি করেছেন। আমরা ১৪ দলের পক্ষ থেকে বিএনপি-জামাতবিরোধী সমাবেশে আইভীকে প্রধান অতিথি করেছিলাম। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মাইকিং করায় তিনি ওই সভায় যোগদিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অথচ তিনি ১/১১ ও মাইনাস ওয়ান ফর্মুলার দোসর কামাল-মান্নাদের সঙ্গে বহুবার সভা করেছেন। তাকে নিয়ে সিটি নির্বাচনের সময় জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়েছিলাম, কিন্তু যখন দেখি ১০ মিনিটের বৃষ্টিতে বন্যা হয়ে যায়, ভাঙা রাস্তায় মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগ পোহায়, দুর্নীতির তদন্ত হয়, লুটপাট আর অনিয়মের কাহিনী পত্রিকায় আসে তখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না। আনোয়ার হোসেন এ সময় নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘আমি এক সময় আইভী পক্ষাবলম্বন করেছিলাম। তিনি মাইনাস ওয়ান ফর্মুলার দোসর ছিলেন এটা বুঝতে পারিনি’।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow