Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪০
প্রকৃতি
পাহাড়ি ঝরনার কলতান
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি
পাহাড়ি ঝরনার কলতান

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনুপম আধার রাঙামাটি পাহাড়ি ঝরনা। হ্রদ-পাহাড়ের শখ্যতায় হৃদয় নিংড়ানো সৌন্দর্য। আর বিস্ময়কর প্রাকৃতিক প্রাচুর্য শুধু রাঙামাটিতেই দৃশমান। রাঙামাটি শহর থেকে ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবলং ঝরনা। প্রত্যন্ত বরকল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান এ ঝরনার। বহু আগেই যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতির বিস্তৃতি ঘটেছে। এ পাহাড়ি ঝরনার শীতল ও চঞ্চলা জলধারা      সব পর্যটককেই কাছে টানে। ঝরনাগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ নৈসর্গিক সৃষ্টি। সমগ্র রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি ঝরনা থাকলেও নয়নাভিরাম সব ঝরনার সমাবেশ বরকলের সুবলংয়েই দৃশ্যমান। যা দেখে হৃদয়-মনজুড়ে সৃষ্টি করে শিহরণ। পাহাড়ি ঝরনা পর্যটককে কাছে টানে অতি সহজে। সবুজ প্রাণের ছোঁয়ায় পর্যটকরা এ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মনে জাগায় সজীব স্পন্দন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঝরনা স্পট। কলকল ঝরনাধারার পানিতে গা ভিজিয়ে আনন্দে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু নারী-পুরুষ। ঝরনাস্থল এখন যেন আনন্দ উৎসবের ফোয়ারা। চারদিক ঘিরে রেখেছে সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। মাঝখানে টলটলে কাপ্তাই হ্রদ। সেই হ্রদ ঘেঁষে পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে এসেছে অপূর্ব সুন্দরী সুবলং ঝরনা। তাকালেই দুচোখ জুড়ে দৃষ্টি কাড়ে। জুড়িয়ে যায় হৃদয়-মন। যা না দেখলে কল্পনাতে আলপনা আঁকা যাবে না। তবে দীর্ঘকাল ধরে সুবলং ঝরনাটি গিরি নির্ঝর নামে পরিচিত। গিরি নির্ঝর ঝরনাটিসহ কাছাকাছি রয়েছে আটটি ঝরনা ধারার সমাবেশ। তার মধ্যে মূল গিরি নির্ঝর ঝরনাটি সত্যিই আকর্ষণীয়। এ ঝরনাটিকে কেন্দ্র করে বরকল উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলেছে পর্যটন স্পট।

যেটি বছরের প্রায় সব মুহূর্ত পর্যটকের সমারোহে মুখরিত হয়ে থাকে। প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতার এ ঝরনা বর্ষাকালে অবিরাম জলধারার পতনে নিক্কন ধ্বনিসমেত অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে। শুষ্ক মৌসুমে ঝরনার জলধারা শুকিয়ে গেলেও বর্ষা নিজ রূপবৈচিত্র্যে ফিরে আসে গিরি নির্ঝর। বর্তমানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সেই অপরূপ দৃশ্য বজায় রয়েছে। যা দেখতে পর্যটকরা ছুটছেন প্রতিদিন। সুবলং ঝরনার অবিরাম কলকল ধ্বনি সবার দৃষ্টি কাড়ছে। এ ব্যাপারে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, বর্ষা শুরু হলেই পর্যটকের ঢল নামে সুবলং ঝরনা স্পটে। এখন সুবলংয়ের ঝরনাকে ঘিরে পর্যটকের ভিড়।

 অনেকে পরিবার-পরিজন ও আপনজনসহ ছুটে এসেছেন ঝরনা অবলোকনের জন্য। রাঙামাটিতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পর্যটক আসে শুধু সুবলং ঝরনা দেখতে। ঝরনা স্পটে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো পর্যটক চাইলেই খুব সহজে ঘুরে আসতে পারে সুবলং ঝরনা থেকে। এ ঝরনাধারা দেখতে হলে রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিন বোট অথবা স্পিডবোট রিজার্ভ করে যেতে হয়। ইঞ্জিন বোট নিয়ে যেতে সময় লাগে আসা-যাওয়া প্রায় ৩ ঘণ্টা। রিজার্ভ করলে ভাড়া দিতে হবে আটশ’ থেকে এক হাজার টাকা। আর স্পিডবোট নিয়ে যেতে হলে আসা-যাওয়া সময় লাগবে পৌনে এক ঘণ্টার মতো। ভাড়া দিতে হবে ৩-৪ হাজার টাকা। আবাসিক হোটেলগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। রয়েছে অগ্রিম বুকিং।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow