Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০২
মানি লন্ডারিং বলতে নারাজ ফিলিপাইনের আরসিবিসি
মানিক মুনতাসির

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম থেকে ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাকে মানি লন্ডারিং বলতে নারাজ ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। ব্যাংকটি বলছে, রিজার্ভের অর্থ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারমেশন পেয়েই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পেমেন্ট চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কিংবা আরসিবিসি নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকও দায়ী। কেননা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে করা এ ঘটনার তদন্তেও বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হয়েছে। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, কোনো ব্যক্তির কারণে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উভয় দেশের কয়েকজন ব্যক্তিকে দায়ী করার মতো তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকের জড়িত থাকার যে তথ্য এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে ফিলিপাইন। সম্প্রতি ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সচিবালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গনর্ভরকে এক চিঠির মাধ্যমে এসব কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য সে চিঠির জবাব এখনো দেয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এর একটি অনুলিপি পাঠাবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মামলা করে টাকা উত্তোলন করা অনেক সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাব রয়েছে। ফলে প্রথম দিকে মামলা করার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও এসব কারণে মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক মানি লন্ডারিং নয়, স্রেফ একটি দুর্ঘটনা বলছে ফিলিপাইন। এ ছাড়া এ ঘটনায় কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা যেতে পারে বলে মনে করে ফিলিপাইন। এদিকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া একেবারেই থেমে গেছে। বাংলাদেশ, ম্যানিলা, ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের তদন্তকাজেও গতি নেই। এদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সিআইডি, পুলিশ, এফবিআইর তদন্তও চলছে ঢিমেতালে। বাংলাদেশ ফিনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), অ্যান্টি মানি লন্ডারিং সংস্থা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি) কোনো সংস্থাই জোরালো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না দোষীদের চিহ্নিত করতে বা অর্থ উদ্ধারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (৮০০ কোটি টাকা) চুরির প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও এর মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে সুইফট ও ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দায় নিতেও রাজি হয়নি। তারা বলছে, এ ধরনের ঘটনার দায় সম্পূর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ দায় তাদেরই বলে মনে করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানা গেছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। শুধু তা-ই নয়, সে সময় প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অন্তত দুজন কর্মকর্তা রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি। এদিকে গুলশান হামলার ঘটনার জেরে বাংলাদেশে পূর্বনির্ধারিত এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) বার্ষিক সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। ঢাকার পরিবর্তে ওই সম্মেলন হবে আমেরিকায়। সেখানে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নিজেদের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে ফিলিপাইনকে চাপ দেবে বাংলাদেশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow