Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৫
হজে সরকারি কোটা বণ্টনে অনিয়ম
মোস্তফা কাজল

হজে সরকারি কোটা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার অনিবন্ধিত ৪ হাজার ৮০০ হাজীর কোটা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে বণ্টন নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে এখনো অনুমতি না পাওয়া গেলেও ইতিমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির মধ্যে সরকারি কোটার হাজীদের সংখ্যা বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা উেকাচ নিয়ে কোটা বণ্টন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক নম্বরের সিরিয়াল ভঙ্গ করে হাজী পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ধর্মমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (হাব) নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল হজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মমন্ত্রী ওই সব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সৌদি সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আসন্ন হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হাজী হজে যেতে পারবেন। কিন্তু প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এক লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছর প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক নম্বর অনুসরণ করে হাজী পাঠানো হবে মর্মে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা ভঙ্গ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাহরাম, হজ গাইড ও প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (হাব) নেতারা কোটা বরাদ্দের নামে বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাব সমন্বয় পরিষদের নেতারা। হাব সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন মিন্টু অভিযোগ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় ১১ এজেন্সির ৮৮৬ জন হজযাত্রীকে অর্থের বিনিময়ে হজ কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারি অব্যবহূত কোটা একটি অসাধু মহল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন এজেন্সির নামে বরাদ্দ দিয়ে কামিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি এয়ারলাইন্স দুটি এজেন্সিকে প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ট্রাভেলস নামের একটি এজেন্সির ১০৩ জনসহ মোট ১১টি এজেন্সির মাধ্যমে ৮৮৬ হজযাত্রীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় জানিয়ে তিনি সেগুলো বাতিল করে সমবণ্টনের দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। সুষ্ঠুভাবে হজ প্রক্রিয়া সম্পাদনের লক্ষ্যে গঠিত নয় সদস্যের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির সদস্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন এমপি, এ কে এম আউয়াল এমপি, হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার ও মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা আরও বলেন, একটি মহল হজের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে প্রাক-নিবন্ধনের সিরিয়াল ভঙ্গ হয়েছে স্বীকার করে তারা বলেন, অনেক এজেন্সির সিরিয়াল হয়তো আগে আছে কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তারা এখন আর নতুন করে হাজী পাঠাতে চাইছেন না। এ ছাড়া মাহরামজনিত সমস্যার কারণে অনেকের সিরিয়াল হাজার হাজার (যেমন : স্বামীর সিরিয়াল আগে কিন্তু স্ত্রীর সিরিয়াল অনেক পরে) পিছিয়ে পড়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সিরিয়াল ঠিক রাখা যায়নি। এমনকি হাতেগোনা তিন থেকে চারজন ভিআইপিকে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে সিরিয়াল মানা সম্ভব হয়নি। ধর্মমন্ত্রী জানান, যা কিছুই করা হয়েছে তা স্বচ্ছতা বজায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন এমপিকে প্রধান করে গঠিত নয় সদস্যের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির অনুমোদন ক্রমেই করা হয় বলে তিনি জানান। হজ কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত আছেন এমন একাধিক হজ এজেন্সির মালিকরা বলেন, ধর্মমন্ত্রী একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্দেহ না থাকলেও বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। হাব নেতারা তাদের ম্যানেজ করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow