Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৮
সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা অভয়ারণ্য হচ্ছে
শেখ আহ্সানুল করিম, বাগেরহাট
সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা অভয়ারণ্য হচ্ছে

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের আরও ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, ৬ প্রজাতির ডলফিনসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ-বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্যে সংরক্ষণে নতুন করে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ৭টি, চাঁদপাই রেঞ্জের ৪টি, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ৪টি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৩টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন এই ম্যানগ্রোভ বনের ৫, ৬, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর এই ৮টি কম্পার্টমেন্ট এলাকাকে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ অভয়ারণ্য নাম দিয়ে বিশ্বের ৫২২তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড (বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা) ঘোষণা করে। ‘বিলুপ্তপ্রায়’ তালিকায় থাকা ইরাবতিসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন রক্ষায় ২০১২ সালে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ৩টি এলাকার নদ-নদীকে ‘ডলফিন অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করে। একইভাবে সুন্দরবনের মত্স্য সম্পদ রক্ষায় ১৮টি নদ-নদী ও খালে মাছসহ সব ধরনের জলজপ্রাণী আহরণও নিষিদ্ধ করা হয়। বন অধিদফতর এবার সুন্দরবনে নতুন করে আরও ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য করার মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত এই বনের ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ৩৩৪ প্রজাতির চিরসবুজ বৃক্ষরাজি, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ৩১৫ প্রজাতির পাখি ও জলভাগে বিলুপ্তপ্রায় তালিকায় থাকা ইরাবতিসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন এবং ২১০ প্রজাতির সাদা মাছের সুরক্ষা সহজতর হবে। এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন, বন বিভাগের কর্মকর্তা ও পরিবেশবাদীরা।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, মানুষের কার্যক্রমে সুন্দরবন পরিবর্তিত ও  ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছে। সংরক্ষিত এই বনে আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বসবাস। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বন অধিদফতর সুন্দরবনের ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ করেছে। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ১, ২, ৩, ৪, ৭, ১১ ও ১২-বি কম্পার্টমেন্ট। চাঁদপাই রেঞ্জের ১০, ১২-এ, ১৩ ও ১৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট। খুলনা রেঞ্জের ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪৯, ৫১- বি ও ৫২ নম্বর কম্পার্টমেন্ট অভয়ারণ্যভুক্ত করা হচ্ছে। সুন্দরবনে এই ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য করতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তারাও সপক্ষে তাদের লিখিত মতামত ব্যক্ত করেছে। সুন্দরবনের নতুন করে এই ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা অভয়ারণ্য হয়ে যাবে বলে জানান সিসিএফ জহির উদ্দিন আহমেদ।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুর ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্তে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় সরকারের এ পদক্ষেপকে সফল করতে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিদ্যমান তিনটি অভয়ারণ্য সুরক্ষায় বন বিভাগের অতীত ভূমিকা প্রশ্নাতীত ছিল না। সাম্প্রতিককালে পূর্ব অভয়ারণ্য এলাকায় ইউনেস্কোর একটি দল জেলেদের মাছ ধরতে দেখতে পায়। যে ঘটনা দেশ-বিদেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে বন বিভাগের গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও সন্তোষজনক ছিল না। নতুনভাবে আরও বনাঞ্চলকে অভয়ারণ্য ঘোষণার পাশাপাশি তার সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে হলে বন প্রশাসনকে সংরক্ষণ ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হতে হবে। নজরদারি ও লোকবল বৃদ্ধিসহ সৎ, দেশপ্রেমিক, দক্ষ, আধুনিক বনকর্মী নিয়োগ এবং পরিবেশমনস্ক সরকারি- বেসরকারি তৃতীয় পক্ষকে তদারকির সুযোগ দিতে হবে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের ৩টি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সংলগ্ন এলাকার ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে নতুন করে অভয়ারণ্য ঘোষণার পর পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ১২টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে ৯টি অভয়ারণ্য হয়ে যাবে। অভয়ারণ্যের জল-স্থলের সব ধরনের সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে একমাত্র ইকো-ট্যুরিস্ট ছাড়া অন্য কেউ এসব এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। এর ফলে সুন্দরবনের এসব অভয়ারণ্যে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ-বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্যে সংরক্ষণ করা বন বিভাগের পক্ষে সহজ হবে।

up-arrow