Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৮
দুর্নীতির টাকা জঙ্গিবাদে
মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতির টাকা জঙ্গিবাদে
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে গতকাল মতবিনিময় করেন দুদক চেয়ারম্যান —বাংলাদেশ প্রতিদিন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির টাকাই জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত হয়। অর্থনৈতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে আজকের বিশ্বের ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, এগুলোকে সমভাবে প্রতিরোধ করতে না পারলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।

গতকাল দুদক কার্যালয়ে দুদকের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২১ নিয়ে প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন ও সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে মতামত দেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশিদ, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান, চ্যানেল আই-এর পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ৭১-টেলিভিশনের মোজাম্মেল বাবু, সংবাদের কাশেম হুমায়ুন, এশিয়ান টিভির আনিস আলমগীর ও সময় টেলিভিশনের মুজতবা দানিশ। দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুদক এখন ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি বন্ধ করতে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। এ জন্য পরিচালনা পর্ষদেরও দায় আছে। এখন সব সরকারি ব্যাংকে আমরা যাচ্ছি। বোর্ডের লোকজনকেও ডাকছি। ইকবাল মাহমুদ আরও জানান, বেসরকারি ব্যাংকেও জনগণের টাকা থাকে। তাই দুদক বেসরকারি ব্যাংকের দুর্নীতিরও তদন্ত শুরু করছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকার প্রসঙ্গ টেনে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এটি দুর্নীতির গহ্বর। এর সঙ্গে ফ্ল্যাট মালিক, জমির মালিক, হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেকে জড়িত। এ বিষয়ে আমরা সরকারকে সুপারিশ করব। আমাদের আইনের কোনো দুর্বলতা নেই। ক্ষমতারও কমতি নেই। রাজনৈতিক কোনো চাপও নেই। ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক খাত ছাড়াও দুদক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের বেতন নিয়ে গ্রামে কাজ না করলে সেটাও দুর্নীতি। কর্মস্থলে চিকিৎসকরা না থাকলে সেটাও দুর্নীতি। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। দুর্নীতি সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সবাই মিলে এটি বন্ধ করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দুদক থানার মতো কাজ করে না। বিশেষ কোনো প্রয়োজন না হলে কাউকে আমরা ডাকি না। তদন্তের প্রয়োজনে মানুষের কাছে যাই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, শিক্ষার মান কমে গেছে। মান কমার পেছনে ফেল কালচার দায়ী। সবাই জিপিএ-৫ এর দিকে ঝুঁকছে। তাই যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক বিষয়ে ফেল করার পরও ছাত্রছাত্রীদের অটো পাস করিয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। তাই টেস্ট পরীক্ষার খাতা এক বছর সংরক্ষণ করার সুপারিশ করেছি। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাইভেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা দূর করা হবে। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতিকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, খসড়া কৌশলগত পরিকল্পনার আরও ছয়টি মতবিনিময় সভা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভায় সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, দুদকের কাছে দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনেক। দুর্নীতি দমনে দুদকের সক্ষমতা বেড়েছে। এটা সাধারণ জনগণের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে। এসবের পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, দুদক ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফলে দুর্নীতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ছাড়া মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা করে সাধারণ জনগণের মাঝে আস্থার জায়গা সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রকৌশলীদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখন ভবন নির্মাণ হচ্ছে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে। দুদক এসব অপকর্ম ধরে আইনের আওতায় এনেছে। ব্যাংকের টাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের টাকা লোপাটকারীদের আইনের আওতায় এনে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া মানব পাচার, সোনা চোরাচালান ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দেশের মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন। ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শিশু সংগঠন খেলাঘর, কচিকাঁচার মেলা, পাঠক ফোরামের মতো সংগঠন তৈরি করে দুর্নীতি প্রতিরোধের কথা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে। মোজাম্মেল বাবু বলেন, দেশে দুর্নীতির শাখা-প্রশাখা বেড়েছে। তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের হারুনুর রশিদ বলেন, জনবান্ধব ডকুমেন্টরি নির্মাণ করে দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। কাশেম হুমায়ুন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আগের চেয়ে কমেছে। সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে এমনটা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আনিস আলমগীর বলেন, অর্থনৈতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। মুজতবা দানিশ বলেন, দুর্নীতি দমনে দুদক যেভাবে কাজ করছে, তাতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow