Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৯
কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খোঁজে ইসি
প্রকল্প, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের তথ্য
গোলাম রাব্বানী

কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ছয়-সাতটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রকল্প, কেনাকাটাসহ অন্যান্য কাজে কর্মকর্তাদের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে ইসির কাছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনাধীন ৩৫ কর্মকর্তার বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের পরামর্শক্রমে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য জানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইসির একজন সিনিয়র সহকারী সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠিও লিখেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিগত হুদা কমিশনের আমলে ভোটার তালিকার কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যাগ কেনাকাটা নিয়ে বেশ সরগরম হয়েছিল। ওই কেনাকাটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অনেক কর্মকর্তাই। পরে ওই ব্যাগ ক্রয় বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইসি। যদিও ওই সময় একজন উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে তেমন কিছুই হয়নি। একইভাবে ইভিএম কেনাকাটা, ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফল পাল্টানো, ইসির বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ইভিএম ও ব্যাগ কেনাকাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ইসির একজন সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত ‘পদোন্নতির বিবেচনার জন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য প্রেরণ প্রসঙ্গে’ একটি চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সংযুক্ত ছকে বর্ণিত কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদে পদোন্নতি বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ জন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বিষয়ে তথ্য জানা প্রয়োজন। ইতিপূর্বে কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য গ্রহণের মতামত প্রেরণ করে। এ অবস্থায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির তথ্য থাকলে তা জানানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’

সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর সম্প্রতি কর্মকর্তাদের  জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এদের মধ্যে উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনাধীন ৩৫ কর্মকর্তার ?দুর্নীতি অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য জানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে ইসি। সূত্র জানিয়েছে, যুগ্ম সচিব থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পর্যন্ত মোট ৩৭৬ জন কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে সম্প্রতি গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে বর্তমানে যারা সিনিয়র সহকারী সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন এমন ৩৫ জন কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতির কথা ভাবা হচ্ছে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য চেয়েছিল ইসি। কিন্তু দুদক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়  থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য মতামত দেয়। যে কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেই এবার তথ্য দিতে নির্দেশ দিল সংস্থাটি। এ বিষয়ে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, পদোন্নতির বেলায় দুর্নীতি খুঁজে  দেখা হয়। এখনো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হবে। এদিকে ইসির তৈরি করা জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট অনেকে। অনেকেই শঙ্কা করছেন, বর্তমান গ্রেডেশন পদ্ধতির কারণে দেরিতে প্রমোশন পাবেন। তবে অনেকেই আবার বর্তমান তালিকা অনুযায়ী নিজেকে বঞ্চিত বলে দাবি করছেন। কেননা, কেউ কেউ পরে চাকরিতে যোগদান করেও বেশি বেতন ভোগ করছেন। যে বিষয়টি সমতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন তারা। এমনকি বিগত সময়ে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারও পদোন্নতি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow