Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০১
উত্তরাঞ্চলে তীব্র হচ্ছে সংকট
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
প্রতিদিন ডেস্ক
উত্তরাঞ্চলে তীব্র হচ্ছে সংকট
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। হরিপুর লখিয়ার পাড়া থেকে গতকাল তোলা ছবি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

পদ্মা, যমুনা, করতোয়া, ঘাঘট, ধরলাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দুর্গতদের নিয়ে সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বহু মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে আছেন। খাদ্য ও কর্ম সংকটে তারা অসহায় জীবনযাপন করছেন।

আমাদের  নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

জামালপুর : পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল দুপুরে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

গাইবান্ধা : বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র করতোয়া, ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীগুলোর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি এসে গেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র ১৮ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি ২৪.৫২ সেন্টিমিটারে অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। ফুলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর মণ্ডল জানান, নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানো পশ্চিম গাবগাছি, উত্তর খোলাবাড়ি ও বাজে ফুলছড়ি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে কাজ কর্ম না থাকায় তারা খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এদিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ী গ্রামে পানিতে ডুবে সুরাইয়া আক্তার (৫) ও ফিরোজ কবির (৫) নামে দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় পুকুর থেকে সুরাইয়া আক্তার ও বিকালে ফিরোজ কবিরের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন গ্রামে পানি উঠছে। পানির তোড়ে ফুলবাড়ী-ধনিরাম সড়কের কুটিবাড়ী মডার্ন স্কুলের সামনের রাস্তা ভেঙে ১০ গ্রামের সঙ্গে সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বড়লই, বড়ভিটা, মেকলি শিমুলবাড়ী, পূর্ব ও পশ্চিম ধনিরাম এবং সোনাইকাজি গ্রামসহ ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে রয়েছে। অন্যদিকে ধরলার প্রবল সে াতে ফুলবাড়ী-লালমনিরহাট সড়কের পশ্চিমপ্রান্ত ও নির্মাণাধীন ধরলা সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত ভাঙনের কবলে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ : অব্যাহত বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকাল বেলা ১২টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পাউবো। এদিকে সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর এলাকায় ঢলের পানিতে স্নান করতে নেমে শরাফত আলী নামের এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। সে সুরমা ইউনিয়নের আলমাস আলী ও হাসু বেগমের দ্বিতীয় ছেলে। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। এ ছাড়া ধর্মপাশার ধারাম হাওরেও মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন ননী দাস (৫০) নামের এক ব্যক্তি। গতকাল সকালে মাছ ধরতে গিয়ে বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow