Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:২৬
বাংলাদেশের রিজার্ভ ছাড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছে ফেড
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছাড় করার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (এফআরবি)। রিজার্ভের পেমেন্ট অর্ডার বা পরিশোধ বার্তা পাওয়ার পর তা কার্যকরের আগে অন্তত তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ধাপ পূরণ করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটিকে সম্প্রতি এ তথ্য সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩০ আগস্ট ওই কমিটির ২৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়া যায়। এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ২৪তম বৈঠকে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে— সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ২৬তম বৈঠকের জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে জানায়, এফআরবির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী এখন তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ধাপ পূরণ করার পর রিজার্ভের অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। এজন্য প্রথমে সুইফটে এফআরবির কাছে পেমেন্ট অর্ডার বা পরিশোধ বার্তা পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক, দ্বিতীয়ত, ওই বার্তা পাওয়ার পর এর একটি সারসংক্ষেপ সুনির্দিষ্ট ইমেইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠায় এফআরবি এবং সবশেষে ওই সারসংক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা (মহাব্যবস্থাপক বা উপমহাব্যবস্থাপক) মারফত টেলিফোনে নিশ্চিত করার পরই রিজার্ভের অর্থ ছাড় করছে ফেড রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ খোয়া যাওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে এই নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওই কার্যপত্রে। নিউইয়র্কের ফেড রিজার্ভের পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিলিং রুম (অফিস অব দ্য ডিলিং রুম) থেকে সরবরাহকৃত তথ্যে জানানো হয়, ভবিষ্যতে রিজার্ভ হ্যাকের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে কম্পিউটার ও আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উপযুক্ত আইটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে খুব শিগগিরই ওই প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর রিজার্ভ হ্যাকের মতো অনিভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে শুধু সকালে একবার (বহির্বিশ্ব থেকে প্রেরিত মেসেজ রিসিভ করার জন্য) এবং বিকালে একবার (মেসেজ প্রেরণের জন্য) সুইফটে এইচএসএম কার্ড সংযোগ দিয়ে লগ ইন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে এফআরবি যে প্রক্রিয়ায় রিজার্ভ ছাড় করত তা ছিল স্বয়ংক্রিয় একটি প্রক্রিয়া। রিজার্ভ পরিশোধসংক্রান্ত বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত প্রিন্টারেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিন্ট হতো। এই সিস্টেম থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট অপারেটরের সুইফট পাসওয়ার্ড হ্যাক করে হ্যাকার চক্র ৪ ফেব্রুয়ারি ১০১ মিলিয়ন ডলার অর্থ সরিয়ে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক জোয়ারদার ইসরাইল হোসেন স্বাক্ষরিত কার্যপত্রে বলা হয়, রিজার্ভ হ্যাকের ঘটনাটি ঘটার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় খোয়া যাওয়া অর্থের একটি অংশ দ্রুত ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow