Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:২৯
দুই কর্মকর্তার অবহেলায় চট্টগ্রামে কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরণ
তদন্ত প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডিএপি-১ সার কারখানায় ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট গ্যাসের ট্যাংক দুর্ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। দুর্ঘটনার দুই দিন আগেই কারখানার সব নিরাপত্তা সিস্টেম ছিল নষ্ট।

এরপরও তা মেরামতের উদ্যোগ নেননি কারখানার দায়িত্বরত উপপ্রধান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার বড়ুয়া এবং জিএম (টেকনিক্যাল ও মেনটেইন্যান্স সার্ভিস) মো. নকিবুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই দুই কর্মকর্তার গাফিলতির চিত্র উঠে আসে। এ কারণে ২২ আগস্ট রাতে কারখানার ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটায় আশপাশের এলাকায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদনে এ দুই কর্মকর্তাকেই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেছে। তাই তাদের প্রত্যাহার করে বিভাগীয় শাস্তি ও তাদের আনুতোষিক থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে এ তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ২০ আগস্ট থেকে কারখানার উত্পাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। উত্পাদন বন্ধ থাকার পর কারখানার সব ধরনের নিরাপত্তা সিস্টেম নষ্ট থাকার বিষয়টি অপারেশন বিভাগ থেকে মেনটেইন্যান্স বিভাগকে জানানো হয়। মেনটেইন্যান্স বিভাগ সেখানে টেকনিশিয়ান পর্যায়ের লোক পাঠালে তারা মেরামত করতে না পেরে ফিরে আসেন। টেকনিশিয়ানদের বিষয়টি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার বড়ুয়া এবং জিএম মো. নকিবুল ইসলাম। তারা সেফটি সিস্টেম নিশ্চিত করার বিষয়টি তদারক করেননি এবং নিজেরা মেরামতের কোনো উদ্যোগও নেননি। প্লান্ট তদারকির বিষয়টি নকিবুল ইসলাম তার রুটিন দায়িত্ব বলে মনে করেননি। তিনি সরাসরি প্লান্ট ভিজিট করেন না, তার অধীনস্থরা করে থাকেন, যা বিধিসম্মত নয়।

কমিটি দুর্ঘটনার কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বর্তমানে এটি একটি জবাবদিহিতাহীন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের সব কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আরও চারটি সুপারিশ করে কমিটি। এগুলো হলো— ডিএপি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সাধন জরুরি, ডিএপির কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্রয়, মেরামত এবং অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যবস্থাপকের ওপর ন্যস্ত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শক্তিশালী চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা। এ ছাড়া ডিএপি-১ ও ডিএপি-২ কারখানা দুটি অধিকাংশ ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য সিইউএফএল এবং কাফকোর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। তাই ডিএপির নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ও সেফটি ইউনিট থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow