Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৮
পরের প্রজন্ম যেন বিপথে না যায়
———— প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন বিপথে চলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজের ছেলে-মেয়ে কী করে, কোথায় যায়, কাদের সঙ্গে মেশে, কী পড়াশোনা করে— সেসব সম্পর্কে খোঁজখবর নিন। গতকাল সকালে রাজধানীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সীমান্ত ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম কখনো হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। এ ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তারা সব থেকে ক্ষতি করছে ইসলাম ধর্মের। পবিত্র ও শান্তির ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অভিভাবকসহ সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

বিজিবির সদর দফতর পিলখানায় ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদস্যদের জন্য চালু হওয়া সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাহিনীটির সদস্যদের যোগ্য সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেন বেকার সমস্যার সমাধান হয়। আর এই ব্যাংক থেকে যেন সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে। এই ব্যাংকে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণ সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) বিজিবির প্রতিটি সদস্যের আনন্দের দিন। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। তার আগে সীমান্ত ব্যাংক উদ্বোধন করলাম। এটা তাদের জন্য ঈদের উপহার।    

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, বিজিবির মহাপরিচালক ও সীমান্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোখলেসুর রহমান বক্তব্য রাখেন। প্রথম গ্রাহক হিসেবে সীমান্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে এর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য, তিনবাহিনী প্রধানগণসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সীমান্তরক্ষী বাহিনীটির অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। ঠিক যে মুহূর্তে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদাররা, ঠিক সেই মুহূর্তে জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাদের সীমান্তরক্ষীরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অসংখ্য যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বেদনাদায়ক ঘটনায় আমাদের এ বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। আজকের দিনে তাদের আমি স্মরণ করছি। যে সময় যে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে, এ বাহিনী তার ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। আমরা অগ্নিসন্ত্রাস থেকে যে দেশের মানুষকে বাঁচাতে পেরেছি, সেক্ষেত্রেও আমাদের এ বাহিনী ভূমিকা রেখেছে। আমাদের বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় এখন সীমান্তে নিহত হওয়ার ঘটনাও কমেছে। বিজিবিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০ পাস করেছি। এতে এ বাহিনী আরও শক্তিশালী হয়েছে গতিশীল হয়েছে। নারীরা কোনো ক্ষেত্রে এখন পিছিয়ে নেই। বিজিবিতেও নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি বাহিনীকেই যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নৌ বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য যৌথ একটি ব্যাংক চালু করা হবে।

জাতির পিতা বলেছিলেন ভিক্ষুক জাতির  ইজ্জত থাকে না— এ কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভিক্ষুক জাতি হতে চাই না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময় আমাদের জন্য সুবিধাজনক ছিল না, দেশের মানুষের জন্যও না। কিন্তু সে অবস্থা এখন কেটে গেছে। দেশের দারিদ্র্য ৫৭ ভাগ ছিল, সেটা এখন ২২ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি। ইতিমধ্যে ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনতে পেরেছি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা বিশ্বে ৫ নম্বরে রয়েছি। আজকে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু খাদ্যের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করিনি, হতদরিদ্র, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করছি। আমরা শিগগিরই পল্লী রেশনিং চালু করতে যাচ্ছি। সেখানে হতদরিদ্র ও পঙ্গুদের রেশনিং ব্যবস্থা করব। এই রেশন কার্ড যাদের কাছে থাকবে, তারা মাত্র ১০ টাকায় চাল কিনতে পারবেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদের আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারে। আমাদের সম্পদের হয়তো সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তা যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা মতো ব্যবহার করা যায়, তবে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow