Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৭
শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা
ঈদের আগে বেতন হবে না অনেক কারখানায়
জিন্নাতুন নূর
শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা
শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ —বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার কোরবানি ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঢাকা ও তার আশপাশের ২০-২৫ শতাংশ কারখানাতে গত আগস্ট মাসের বেতন দেওয়া হবে না।

এমনকি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাসও দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ না করেই বেআইনিভাবে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার কয়েকটিতে বিক্ষোভের জন্য শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পাওনা টাকার দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, দুই-একটি ছাড়া তাদের সব কারখানাই সময়মতো বেতন-বোনাস দিতে পারবে। যদিও শ্রম মন্ত্রণালয় ঈদুল আজহার আগে পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মালিক-শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সময় নির্ধারণ করা হয়। এতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগস্টের বেতন ও ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। বৈঠকে শ্রমিকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কারখানা মালিক বেতন দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু এবারও ঈদের আগে বোনাস ও বেতনভাতা না দিয়ে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চলছে শ্রমিক ছাঁটাই। পাওনা বকেয়া পরিশোধ না করে মালিক কর্তৃপক্ষের অনেকেই কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সাভারের সিপিএম কম্পোজিট নিট নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকা আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। তারা জানান, বেআইনিভাবে চার শতাধিক শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি মালিক। এমনকি কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই কারখানাটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া পাওনা বেতন-বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের তানিয়া গার্মেন্টের শ্রমিকরা। শ্রমিকের বেতন ও বোনাস না দিয়ে হঠাৎ গার্মেন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে কুশিয়ারা কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা। তারা জানান, গত তিন মাস ধরে তাদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করে আসছে। কারখানা মালিক কাজ না থাকার কথা বলে প্রায় ১৫০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে। কিন্তু কারখানার ভিতর ঠিকই সাব-কন্ট্রাকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গাউস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১৩৯ জন ইউনিয়নের সদস্য ও কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়। বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত সাদাত অ্যাপারেলসেও শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। সাদাত অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ তাদের আরেকটি কারখানা ফ্যাশনট্রেকে পোশাক তৈরি করে নিচ্ছেন কিন্তু শ্রমিকদের পাওনা না মিটিয়ে সাদাত অ্যাপারেলস বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি এই কারখানা শ্রমিকরা পাওনাদি চাইলে তাদের সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের আশুলিয়ার বানদু ডিজাইন লিমিটেডে গত দুই দিনে শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার কারণে ৪০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি মইনুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রোজার ঈদের মতো আমরা কোরবানির ঈদেও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের চেষ্টা করব। তবে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ৫ হাজার কারখানার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ না করতেই পারে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। শ্রমিক নেতারা জানান, আমাদের কাছে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ও তার আশপাশের ২০-২৫ শতাংশ কারখানায় আগস্ট মাসের বেতন দেওয়া হবে না বলে শ্রমিকদের জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন চলছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, অনেক কারখানায় শ্রমিকরা তাদের পাওনা নিয়ে বিক্ষোভ বা দাবি জানালে তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow