Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৬
প্রকৃতি
কিশোরগঞ্জ শহরে আরেক হাতিরঝিল
মানিক মুনতাসির, কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে
কিশোরগঞ্জ শহরে আরেক হাতিরঝিল

হাওরের শহর কিশোরগঞ্জে গড়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন নয়নাভিরাম আরেক হাতিরঝিল। শহরের অভ্যন্তর দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদী কয়েক দশক ধরেই মৃত। ভরা বর্ষা মৌসুমেও এ নদীতে নেই স্রোত। এই মৃত নদীকে জাগিয়ে তুলতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর। শহরের গুরুদয়াল কলেজসংলগ্ন এলাকায় মৃত নদীতে এখন গড়ে উঠছে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে লেকসিটি। এতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ। নির্মাণ প্রায় শেষ উন্মুক্ত মঞ্চ। যেখানে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করতে পারবেন শহরবাসী। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন। প্রকল্পটির কাজ ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম মিয়া। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা এই প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ছোটখাটো কিছু সমস্যাও রয়েছে। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ অন্যতম। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে পারলে এটি হবে কিশোরগঞ্জ শহরের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। তিনি আরও জানান, মৃত এই নরসুন্দা নদীকে আবারও জীবিত করা সম্ভব। ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে যুক্ত করতে মাঝখানে মাত্র ৩ কিলোমিটার এলাকা খনন করলেই নদীটি আবার জীবন ফিরে পাবে।

জানা গেছে, নরসুন্দা নদীটি এতদিন ছিল অবৈধ দখলদারদের কাছে জিম্মি। হাতিরঝিলের আদলে লেকসিটি গড়ে তোলার মাধ্যমে একে দখলমুক্ত করছে সরকার। এ প্রকল্পে থাকছে স্বচ্ছ পানির ঝরনাধারা। পথচারীদের হাঁটার জন্য সুপ্রশস্ত রাস্তা। শান বাঁধানো ৮টি ঘাট। শহরের আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা। নির্মাণাধীন রয়েছে ১০ তলা উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে পুরো শহর এক দৃষ্টিতে দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, দূরে অবস্থিত হাওরের দৃশ্যও দেখা যাবে এই টাওয়ার থেকে। ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— হোসেনপুর উপজেলা থেকে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন, নদীর দুই পাড়ের ৬ কিলোমিটার এলাকা বাঁধাইয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ, পৌর এলাকায় ৬টি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণ, নদীর দুই পাড়ে ৬ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ২০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, ৮টি ঘাট ও ১টি দৃষ্টিনন্দন পার্ক। এসব কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই সমাপ্ত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এ লেকটি। এতে প্রথম দফায় ৬৩ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়। পরে তা সংশোধন করে ১০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow