Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১০
স্বামীর হাতে স্ত্রীর হত্যা বেড়েছে রাজধানীতে
মাহবুব মমতাজী

রাজধানীতে সম্প্রতি স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও অধিকাংশ মামলার আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

বাদীদের অভিযোগ— দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামি গ্রেফতারে পুলিশের খুব একটা গরজ দেখা যায় না। তারা শুধু আশ্বাস দেয়। জানতে চাইলে পুলিশ বলছে, মামলাগুলো তদন্তাধীন। গত দুই মাসে অন্তত পাঁচজন গৃহবধূ খুন হয়েছেন।

 তাদের খুনের অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয় স্বামীর দিকে। পুলিশ বলছে, আসামি ধরতে তারা তত্পর রয়েছে। সূত্র জানায়, ২৫ আগস্ট ডেমরার বামুইল পূর্বপাড়া মালেকের ভাড়া বাসা থেকে শাহিদা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মনোয়ার হোসেন পলাতক। শাহিদার লাশ উদ্ধারের পর তার বড় বোন মোরশেদা বেগম ডেমরা থানায় মনোয়ারকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, চার বছর আগে শাহিদার সঙ্গে মনোয়ারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর শাহিদা জানতে পারেন, তার স্বামীর আগের স্ত্রী-সন্তান রয়েছেন। এর পরই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরে মনোয়ার শাহিদাকে হত্যা করতে পারেন। দুই দিন ধরে তাদের ঘর তালাবদ্ধ থাকায় এবং ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ডেমরা থানার এসআই আবদুল কুদ্দুস ঘরের তালা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠান। শাহিদার দুলাভাই আবুল কালাম জানান, ‘আসামি আমাগো গেরামে পলায় আছে। পুলিশরে কইলে তারা চেষ্টা করতাছে বোলে কয়। ’ এ বিষয়ে ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। আসামি ধরতে প্রচেষ্টা চলছে।

১৯ জুলাই মিরপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী সালাহ উদ্দিন সালেমিনের হাতে খুন হন সানজিদা খাতুন (২৪) নামের আরেক গৃহবধূ। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পার হলেও গ্রেফতার হননি আসামি। সূত্র জানায়, ঘটনার আগের রাত ৩টায় সানজিদাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সালেমিন। পরদিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সানজিদার বড় ভাই জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। সানজিদা মাগুরার মহম্মদপুর ডিগ্রি কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মিরপুরের এফ ব্লকের সেকশন-১-এর ৪ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর টিনশেডের ভাড়া বাসায় সানজিদা আর সালেমিন থাকতেন। সালেমিন মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের পশ্চিম পাশে তার ভাইয়ের ফলের দোকানে কাজ করতেন। প্রথম স্ত্রী থাকার পরও বিষয়টি গোপন করে ছয় মাস আগে সানজিদাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন সালেমিন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। ঘটনার দুই দিন আগে দুজনের তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এরপর সালেমিন সানজিদাকে তার বড় বোনের বাসা থেকে ডেকে এনে নিজ বাসায় খুন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সানজিদার বড় ভাই জিল্লুর রহমান জানান, এখনো আসামি গ্রেফতার হননি। তবে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সালেমিনকে গ্রেফতার করা যাবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে। জানতে চাইলে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তার ভাই দুলালকে আটক করেছি। তারও অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছি। দু-এক দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা যাবে। ’ ২৬ জুলাই ভোরে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় কবরস্থান রোডের ২৯৬/এ নম্বর টিনশেড বাসা থেকে পলি আক্তার নামে হাত-পা বাঁধা গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুরে। ঘটনার দিন পলির ভাই রুবেল জানান, স্বামী দ্বীন ইসলাম সাগর দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে ছয় বছর ধরে মেয়ে নদীকে (১০) নিয়ে আলাদা বসবাস করতেন পলি। পলির মৃত্যুর আগের দিন দুপুরে তার বাসায় তিন-চার জন লোক আসে এবং বিকালে তারা চলেও যায়। পরদিন কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা খুলেই দেখা যায় তার হাত-পা বাঁধা ও গলা কাটা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, আসামিদের একজনকে গ্রেফতার করা গেছে। পলির সঙ্গে প্রেমঘটিত সমস্যার কারণে হত্যা করেছে বলে আদালতে ওই আসামি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

up-arrow