Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৭
ওবায়দুলের স্বীকারোক্তি
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়ই রিশা খুন
আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছুরি দিয়ে খুন করে ঘাতক ওবায়দুল হক। এর আগে রাজধানীর হাতিরপুলের এক দোকান থেকে ওই ছুরিটি কেনা হয়।

গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি ওবায়দুল হক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন। আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আসামি ওবায়দুল বলেছেন, তিনি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বিপণিবিতান ইস্টার্ন মল্লিকার বৈশাখী টেইলার্সের কর্মী ছিলেন। কয়েক মাস আগে রিশা ওই টেইলার্সে একটি জামা বানাতে দেন এবং যোগাযোগের জন্য সেখানে ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। ওই ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আসামি ওবায়দুল যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং রিশাকে ফোনে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া স্কুলে যাওয়া-আসার সময়ও একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দেন তিনি। এর পরও রিশা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওবায়দুল ক্ষিপ্ত হন। পরে ২৪ আগস্ট বেলা সোয়া ১১টার সময় রিশা পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বের হয়ে কাকরাইল ফুটওভারব্রিজের ওপর দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় রিশাকে ওবায়দুল আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হলে ওবায়দুল ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে তার বাঁ হাতে ও পেটের বাঁ পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। পরে ওবায়দুল শুনতে পান, রিশা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছে। এর আগে আসামিকে ছয় দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন। রিমান্ডে থাকাকালে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে। রিশা (১৪) হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় তার মা মামলাটি করেন। পরে রিশা মৃত্যুবরণ করলে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

up-arrow