Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৩
যশোরে তালিকাভুক্ত ১১ জঙ্গির ছয়জনই এক পরিবারের
পুলিশের পোস্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে আপন চার ভাই-বোনসহ একই পরিবারের ছয়জন জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হয়ে পড়েছেন। এদের দুই প্রশিক্ষকসহ আরও পাঁচ জঙ্গির কথাও জানতে পেরেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে এই ১১ জঙ্গির ছবিসহ একটি পোস্টার গতকাল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে এসব জঙ্গির মধ্যে তিনজনকে বিভিন্ন সময় আটক করা হলেও সরকারি কৌঁসুলিদের (পিপি) বিরোধিতা না থাকায় আদালত তাদের জামিন দিয়ে দিয়েছে বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার। এমনকি এক জঙ্গির পক্ষে যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

পুলিশের ছাপানো পোস্টারে রয়েছে যশোর শহরের পুরাতন কসবা কদমতলা এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল, তার ভাই তানজির আহমেদ, বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুন, মাকসুদার স্বামী শাকির আহম্মেদ এবং মাসুমার স্বামী নাজমুল হাসানের নাম ও ছবি। এদের মধ্যে তানজিব হিযবুত তাহ্রীরের মোশরেক পদে আছেন। অন্য সবাই একই সংগঠনের কর্মী। তাদের প্রশিক্ষক হিসেবে রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বরসেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়ির মুসাব্বির ওরফে প্রকাশ ওরফে তন্ময় (৩০) এবং ঢাকার দক্ষিণখানের ৪০১ কলেজ রোডের হারেজ আলীর (২৭) ছবি ও নাম ছাপা হয়েছে ওই পোস্টারে। এ ছাড়া পোস্টারে আরও যে তিন জঙ্গির নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন যশোরের মণিরামপুরের জি এম নাজিমউদ্দিন ওরফে নকশা নাজিম, চাঁচড়া বেড়বাড়ী এলাকার মহিউদ্দিন ও শার্শার মেহেদী হাসান ওরফে জিম ওরফে হুসাইন। যশোরের পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় জঙ্গি তানজিবের বাসায়ই প্রশিক্ষক তানজিব ও হারেজ আলী প্রশিক্ষণ দিতেন। সম্প্রতি যশোর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা হিযবুত তাহ্রীরের চার সদস্যও একই স্থানে প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর তানজিবকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি কৌঁসুলি তার জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত মে মাসে তাকে জামিন দিয়ে দেয়। একইভাবে তানজিবের ভাই তানজির আহমেদ ও বোন মাছুমা আক্তারকেও একটি ল্যাপটপসহ আটক করে পুলিশ। এই দুটি মামলায়ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কৌঁসুলিরা জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালত তাদের জামিন দিয়ে দেয়। তিনজনই বর্তমানে পলাতক। পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা আদেশের অনুলিপি তুলে দেখেছি। সরকারি কৌঁসুলিরা জামিনের বিরোধিতা না করায় আসামিদের জামিন দেওয়ার কথা সেখানে বিচারকরা লিখেছেন। তানজিবের ব্যাপারে তো তার পক্ষে যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন। এসব বিষয় সরকারকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘স্পর্শকাতর এ বিষয়গুলোতে আমরা (পুলিশ) খুবই সিরিয়াস। এসব জঙ্গিকে ধরতে আমরা একেকজনের পেছনে ছয়-সাতবার করেও অভিযান চালিয়েছি। কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’

up-arrow