Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
ভয়ঙ্কর পরমাণু বোমার পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
প্রতিদিন ডেস্ক

বয়স সাকুল্যে ৩২ বছর। এই বয়সে উত্তর কোরিয়ার নেতা।

তারুণ্যের উন্মাদনায় তিনি কাউকেই পাত্তা দেন না। জাতিসংঘ হোক বা যুক্তরাষ্ট্র। কারও চোখ রাঙানিকে তিনি ভয় পান না! গোটা বিশ্বকে এবার ভয় পাইয়ে দিতে এবার পরীক্ষা চালালেন শক্তিশালী পরমাণু বোমার। গতকাল ছিল দেশটির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর এই দিন সবাই পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালো। এ বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী যে, হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়ে দুই বা তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবেরি ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগ জানিয়েছে, ২০ থেকে ৩৫ কিলোটনের একটি পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন কিম। যা আগের পরমাণু বোমাগুলোর তুলনায় অনেক শক্তিশালী। হিরোশিমাতে ১৫ কিলোটনের বোমা ফেলা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ফলে রিখটার স্কেলে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয় পরীক্ষাস্থল পাংগাই-রিতে। দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষ্য, আজকের পরীক্ষাটি উত্তর কোরিয়ার এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। উত্তর কোরিয়া সত্যিকার অর্থেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে এ ঘটনায় আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষাস্থলের কাছ থেকে বড় ধরনের ভূকম্পন শনাক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পিয়ংইয়ং দাবি করে, নতুন করে উদ্ভাবিত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এটি সফল হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এই শক্তিশালী পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর বিশ্বনেতারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়া এক লাগাম ছাড়া উন্মাদের মতো আচরণ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হেই এক বিবৃতিতে কিমের এই কাজের নিন্দা করে বলেন, ‘নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনছে উত্তর কোরিয়া। ’ পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, যেভাবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিম পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটালেন, তাতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার এ অভিযোগকে খুব একটা পাত্তা দেয়নি পিয়ংইয়ং। গত জানুয়ারি মাসেই নিজেদের সর্বশেষ পারমাণবিক (হাইড্রোজেন) পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এরপর আরও কয়েক দফায় দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোরও কপালে ভাঁজ পড়েছে আগেই। এ বার সেই চিন্তা আরও বাড়াল! তবে পরীক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে আমেরিকাও নজরদারি বিমান পাঠিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সেখানকার বাতাসের নমুনা সংগ্রহ করার পরই বোঝা যাবে আসল ঘটনাটা ঠিক কী! জাপানও চারটি বিমান পাঠিয়েছে কোনো তেজস্ক্রিয় নির্গমন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। গত ৬ জানুয়ারি চতুর্থ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর আগে ২০০৬, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে তিন দফায় পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্রই জি-২০ সম্মেলন শেষ হয়েছে। তার পরই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কী আরও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে চাইলেন কিম?

নিন্দায় বিশ্বনেতারা, জোরালো হুঁশিয়ারি : উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, চীন, ফ্রান্স, নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ব্লু হাউস (দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসবভন) কর্তৃপক্ষ। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে। পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যদি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে থাকে তবে আমরা তা একেবারেই উপেক্ষা করতে পারি না। আমাদের কঠোরভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। এএফপি, বিবিসি, এপি

up-arrow