Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৩
বাড়ি ফেরায় দুর্ভোগ
প্রতিদিন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে শেকড়ের টানে গ্রামে ফিরছেন নগরবাসী। পথে পথে যানজটের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি মাথায় নিয়ে রাজধানী ছেড়েছে মানুষ। তবে গতকাল বিকাল থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ দিনও ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল সড়ক ও রেলপথের পাশাপাশি নৌপথেও।

কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে এ দিন সকালে সময়মতো যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যায়।    সদরঘাট থেকেও যাত্রীবাহী লঞ্চ নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গত রাতে জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরের পর থেকে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর আগে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট বন্ধ থাকার কারণে বাড়ি ফেরা মানুষ যানজটের দুর্ভোগে পড়েছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দিনভর মহাসড়কের যান চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সকালে তিনি গাবতলী, বাইপাইল, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, সাভারে যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকালে কাঁচপুর, মেঘনা এলাকায় সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে ঈদে ঘরমুখী মানুষ ও যানজটের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, আধুনিক রেল ও সড়ক কোনো কিছু করেও যানজট নিরসন করা যাবে না। তিনি বলেন, এবার ঈদে ঘরমুখী মানুষকে স্বস্তি দিতে পারিনি। তবে গত ঈদের তুলনায় সড়কের অবস্থা ভালো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে গাড়ি পারাপারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে পাটুরিয়া ঘাটে। তবে ঢাকা টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট ছিল, এখন উন্নতি হয়েছে। এদিকে পশুবাহী ট্রাকের জন্য সড়কে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং ফিরতি পথে গাড়ি আসতে পারছে না। ফলে কিছুটা জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও সব মিলিয়ে এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

টাঙ্গাইল : গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের গোড়াই থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৮টি পয়েন্টে অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের ধেরুয়া রেলক্রসিং, মির্জাপুর বাইপাস, পাকুল্লা বাসস্ট্যান্ড, নাটিয়াপাড়া, করটিয়া, টাঙ্গাইল শহর রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এ যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ৩ ঘণ্টার যাত্রায় সময় লাগছিল ৫/৬ ঘণ্টা করে। ঈদযাত্রায় গাড়ির চাপ ও মহাসড়কে যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়াই যানজটের কারণ। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম জানান, ঈদের চাপ পুরো মাত্রায় শুরু হয়েছে। গত রাতে এ মহাসড়ক দিয়ে ২৪ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে। আস্তে আস্তে গাড়ির চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কে ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মহাসড়কের কোথাও কোনো সমস্যা হলেই তাত্ক্ষণিক জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করছি।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় মহাসড়কে গতকাল ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতিতে চলেছে যানবাহন। এ কারণে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েন। পুলিশ জানায়, মহাসড়কের পাশে হোটেল থেকে হুট করে গাড়িগুলো মহাসড়কে উঠে পড়া, ওভারলোড এবং ওভার টেকিংয়ের কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে তত্পর রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকেই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে থেমে থেমে চলছে যানজট। চালকরা যেভাবে পারছে ওভারটেকিং করছে। ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত মাত্র ৪০ মিনিট সময় লাগত। যানজটের কারণে এখন প্রায় ২ থেকে ৩ তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। সুরধ্বনি পরিবহনের যাত্রী রাজমিস্ত্রি গণপতি সরকার ও মনোরঞ্জন সরকার জানান, তারা শুক্রবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়েছেন। ২৩ ঘণ্টায় তারা কেবল সিরাজগঞ্জে পৌঁছেছেন।

হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ কোনো যানজট নেই। তবে খুবই ধীরগতিতে চলছে গাড়িগুলো। যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ এড়াতে সিরাজগঞ্জের ১০৩ কিলোমিটার মহাসড়কে মোবাইল টিম, নিরাপত্তা টিম, পেট্রোল পার্টি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও ওয়াক ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি, মাইকে প্রচারণার মাধ্যমে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে।

মাদারীপুর : গতকাল ভোর থেকে যানজটের প্রভাব পড়ে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে। কাওড়াকান্দি ঘাটে নেমে যাত্রীদের ২ কিলোমিটার হেটে পাচ্চর বাইপাস সড়ক এসে গাড়িতে উঠতে হয়েছে। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে বহুগুণ। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩ কিলোমটার এলাকাজুড়ে ঘাটে দেখা দেয় যানজট। ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন এই রুটে। পারাপারের অপেক্ষায় আটকে ছিল কয়েকশ গরুবোঝাই ট্রাক ও পণ্যবাহী ট্রাক। মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে ইন্সপেক্টর উত্তম শর্মা জানান, অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপে ঘাট এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শরীয়তপুর : নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ঈদ যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ রুটের ঘাটগুলোতে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যাত্রী ও গাড়ি পারাপারে যাতে বিঘ্ন সৃৃষ্টি না হয় সেই কারণে ঘাটগুলো পরিদর্শন করছি। গতকাল দুপুরে শরীয়তপুরের আলু বাজার ফেরিঘাটে পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

up-arrow