Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৪
নগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, বিতর্কিতরা বাদ
নতুন মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল, মেয়র আনিস
রফিকুল ইসলাম রনি

বিতর্কিতদের বাদ এবং ওয়ান-ইলেভেনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাবেক ছাত্রনেতা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের মূল্যায়ন করা হয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাঁচ মাস পর গতকাল দুই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষিত কমিটিতে নতুন মুখ মেয়র আনিসুল হক ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথমবারের মতো নগরের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল উত্তরের সহ-সভাপতি হয়েছেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের স্থান হয়েছে  ঢাকা দক্ষিণের উপদেষ্টা পরিষদে। বিগত কমিটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিমকে দক্ষিণের নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। গতকাল আওয়ামী      লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির খবর দিয়ে জানানো হয়, দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের কমিটি অনুমোদন করেছেন। ঘোষিত কমিটিতে মহানগরের বিভিন্ন থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের যেমন মূল্যায়ন হয়েছে, তেমনি পদ না পেয়ে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

একাত্তর সদস্যবিশিষ্ট উভয় কমিটিতেই দুটি করে সদস্য পদ খালি রাখা হয়েছে। উত্তরের উপদেষ্টা পরিষদে ৯ জন এবং দক্ষিণের উপদেষ্টা পরিষদে ৬ জনকে সদস্য করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে কমিটি ঘোষণা দেন। তখন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ৪৯টি থানা ও ১০৩টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে উত্তরে কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং দক্ষিণে ড. আবদুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেওয়া হয় নগর কমিটি সমন্বয় করতে।

উত্তরে এ কে এম রহমতউল্লাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দক্ষিণের সভাপতি হয়েছেন আবুল হাসনাত ও  সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শাহে আলম মুরাদ। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এর সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলো। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা।

সাবেক ছাত্রলীগ ও নতুনদের ছড়াছড়ি : প্রথমবারের মতো মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন অবিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত আবদুল আজিজের ছেলে ওমর বিন আজিজ তামিম। তিনি দক্ষিণের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। দফতর সম্পাদক গোলাম রব্বানী বাবলু, সহ-দফতর মিরাজ হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক মামুনুর রশিদ শুভ্র, উত্তরের সহ-প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানাসহ অনেকেই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের কেউ কেউ পদ না পেয়ে হতাশ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের সময়ে পুলিশের মারমুখী অবস্থানেও নেত্রীর পাশে ছিলেন এমন একটি আপলোড করে লিখেছেন, ‘১/১১’র দুঃসময়ের ফলাফল আজ পেলাম। আর কাউকে বিরক্ত করব না, সবাই ভালো থাকবেন। আমরাই থাকব।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দায়িত্বে যারা : ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি করা হয়েছে হাজী আবুল হাসনাতকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. শাহে আলম মুরাদকে। সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন আবু আহাম্মেদ মান্নাফী, নজিবুল হক সরদার, আওলাদ হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির, আবুল বাশার, আলমগীর চৌধুরী, নূরুল আমিন রুহুল, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, অধ্যক্ষ বাবু এস এন রায় সমর। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন কামাল চৌধুরী, আবদুল হক সবুজ ও ডা. দীলিপ রায়। এ ছাড়া আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া, কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের আবদুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের নাঈম নোমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের সহিদুল ইসলাম মিলন, দফতর সম্পাদকের গোলাম রব্বানী বাবলু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের এ এফ এম  আবদুল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের মো. আকতার হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদকের শেখ রইসুল আলম ময়না, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর বিন আজিজ তামিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের অ্যাডভোকেট তাহমিনা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের মো. মোশারফ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের শেখ সেকান্দার আলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদকের মেজবাহুল রহমান ভূঁইয়া রতন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মো. নাসির, শ্রম বিষয়ক সম্পাদকের মীর মনির হোসেন টুটুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সালাউদ্দিন বাদল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ডা. নজরুল ইসলাম। নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, আশরাফ হোসেন তালুকদার ও  কাজী মোর্শেদ কামাল। সহ-দফতর সম্পাদক হয়েছেন মিরাজ হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা মামুনুর রশিদ শুভ্র এবং কোষাধ্যক্ষের পদ পেয়েছেন ইমতিয়াজ জামিল লাভলু।

সদস্য পদ পেয়েছেন— ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, হাজী মো. সেলিম, মো. বাচ্চু মিয়া, শরফুদ্দীন সেন্টু, মির্জা আ. খালেক, কবির উদ্দিন আহাম্মেদ, আবুল কালাম আজাদ, ডা. মোশারফ হোসেন, এস কে বাদল, মাসুদ সেরনিয়াবাত, লিয়াকত আলী খান, জহিরুল আলম, সাজেদা খানম, জাহানারা বেগম রোজী, আহসান উল্লাহ খান মনি, ইঞ্জিনিয়ার লুত্ফুর রহমান, নির্মল গোস্বামী, মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, ফজলে রাব্বী, আনিস আহম্মেদ, আবদুল মতিন হাওলাদার, জোবায়দুল হক রাসেল, নাছিমা আহাম্মেদ, সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী, নাজমুল হক, সফিকুল ইসলাম দিলু, মাহবুবর রহমান আলীজান, মজিবুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, মনসুর আহমেদ, জসীম উদ্দীন খান আজম।

উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন— মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, কামরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রফিক, মোল্লা মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান মোল্লা, গাজী লুত্ফর রহমান কবির (রেনু)।

ঢাকা মহানগর উত্তরের দায়িত্বে যারা : ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি করা হয়েছে আলহাজ এ কে এম রহমতউল্লাহকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাদেক খানকে। এ ছাড়া সহ-সভাপতি করা হয়েছে শেখ বজলুর রহমান, আসাদুজ্জামান খান কামাল (এমপি), আসলামুল হক (এমপি), আজিজুর রহমান বাচ্চু, মো. নাজিম উদ্দিন, জাহানারা বেগম, মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, খন্দকার রফিকুর রহমানকে। এ কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন— এস এম মান্নান কচি, কাদের খান ও হাবিব হাসান। আইন বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন। কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন এম এ এম রাজু আহমেদ। আনোয়ার হোসেন মজুমদার পেয়েছেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদ। এ ছাড়া ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন এস এম মাহবুব আলম, দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সুফী সুলতান আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, বন ও পরিবেশ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম তোফাজ্জল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল আনাম ভুঁইয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহেরুন্নেসা মেরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম খান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবদুল গফ্ফার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এ জাফর নিজামী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. বরকত খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইকবাল খান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন কর্নেল ডা. কানিজ ফাতেমা (অব.)।

নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন আলহাজ ফকির মহিউদ্দিন আহমেদ, মোক্তার সরদার ও জহিরুল হক জিল্লু। সহ-দফতর সম্পাদকের পদ পেয়েছেন শাহরুখ খান মিরাজ। সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ পেয়েছেন মো. আজিজুল হক রানা এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন মো. ওয়াকিল উদ্দিন।

এ কমিটির সদস্যরা হলেন— মো. ওসমান গনি, আব্বাস উল্লাহ শিকদার, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিউদ্দিন, মো. লিয়াকত আলী, রাবেয়া আক্তার ডলি, এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, শেখ মজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহম্মদ পাইন, অ্যাডভোকেট মাহাবুব আলী, হাজী আবদুল বাতেন, কাজী আবুল কালাম আজাদ, আলহাজ মো. ইসরাফিল আশরাফ, অধ্যাপক এম এ হামিদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা), আলহাজ মুজিব সারোয়ার মাসুম, আলহাজ এম এ সেলিম খান, এম এ হান্নান, হাজী মো. বশির উদ্দিন আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম বেপারী, হাজী আবদুল ওয়াসেক, আবুল কাশেম, মো. আমির হোসেন মোল্লা (শাহ আলী), মো. আবদুল গফুর মিয়া, মো. আইয়ুব আকরাম মুকুল, মো. আফছার উদ্দিন খান, মো. মিজানুর রহমান (চাঁন), বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান সাচ্চা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ মাস্টার, ইঞ্জিনিয়ার মো. আনোয়ারুল ইসলাম (আনোয়ার), ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নিল), ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী, আলহাজ ইসমাইল হোসেন।

উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন— কামাল আহমেদ মজুমদার, অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান সরদার, মুকুল চৌধুরী, আবদুল আউয়াল সিদ্দিকী, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, ডা. এইচ বি ইকবাল, পীরজাদা সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মেহবুব আলম, মেয়র আনিসুল হক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow