Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৫
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা
এবার শুরুতেই স্বর্ণ পরীক্ষা ক্রেস্টের
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা জানানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কানাডা সফরে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়াত পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেবেন।

এ উপলক্ষে স্বর্ণের ক্রেস্ট তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্রেস্ট গ্রহণের আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় দুই দফায় পরীক্ষা করে নিয়েছে স্বর্ণের পরিমাণ ও মান। এর আগে ক্রেস্টের স্বর্ণ কেলেঙ্কারির পর এবার এই বিশেষ সতর্কতা বলে জানিয়েছেন  সংশ্লিষ্টরা। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আধুনিক কানাডার জনক পিয়েরে ট্রুডো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পিয়েরে ট্রুডো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বড় রকমের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শরণার্থীদের মানবিক সাহায্য অনুমোদন করেছিলেন। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন স্রোতের বিরুদ্ধে। কানাডার অনেক মৈত্রী দেশই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। বিরুদ্ধবাদীরা চালিয়েছে বড় ধরনের প্রপাগান্ডা। ওই স্রোতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পিয়েরে ট্রুডো কানাডার পার্লামেন্টের তিনজন এমপিকে মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী শিবিরে পাঠান। তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, নগদ অর্থসহ পাঠান বিপুল পরিমাণ সহায়তা। এ জন্য পিয়েরে ট্রুডোকে নিজ দেশেও রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকি নিতে হয়েছে। কেননা কানাডার কুইবেক প্রদেশে তখন স্বাধীনতার আন্দোলন চলছিল। গোটা কানাডায় কুইবেক রাজ্যের আন্দোলনকে বলা হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। ফলে ওই সময়টাতে যে কোনো দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে কানাডার জনগণ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে ওই সময় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সামান্যতম সহানুভূতি প্রকাশ করাও রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। এর পরও বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের এই বন্ধু। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১২ বছর পর ঢাকায় এসেছিলেন পিয়েরে ট্রুডো। সেই সফরে তাকে দেওয়া হয়েছিল সংবর্ধনা। পিয়েরে ট্রুডোর সেই ঢাকা সফরের সঙ্গী ছেলে জাস্টিন ট্রুডো এখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। ছেলের হাতেই সম্মাননা তুলে দেবেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে কানাডায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সেই অনুষ্ঠানেই ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তৈরি করা ক্রেস্টে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ ও ৫০ গ্রাম রুপা ব্যবহার করা হয়েছে। তৈরি করে দিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা ও নকশায় তৈরি করা হয়েছে ক্রেস্ট। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুত করা ক্রেস্ট প্রথমে নেওয়া হয়েছে বিএসটিআইতে। পরীক্ষা করা হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ। এর পরই মন্ত্রণালয় ক্রেস্ট গ্রহণ করেছে। এসব তথ্য জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আগের কেলেঙ্কারি শুধু মন্ত্রণালয় নয়, পুরো জাতিকেই কলঙ্কিত করেছে। এবার আর সে সুযোগ দেওয়া হবে না। তাই দুই দফায় পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছে ক্রেস্ট। ’

জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা সম্মাননা দেওয়া হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। ২০১১ সালের ২৫ জুলাই তার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধীর হাতে এ সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ৮৩ জন বিদেশিকে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তৃতীয় পর্বে ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর আরও ৬১ জন বিদেশি বন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হয়। চতুর্থ পর্বে একই বছর ১৫ ডিসেম্বর ৬০ বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। পরে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননার সময় দেওয়া ক্রেস্টে যে পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। আর ক্রেস্টে রুপার বদলে দেওয়া হয় পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু। প্রতিটি ক্রেস্টে এক ভরি (১৬ আনা) স্বর্ণ ও ৩০ ভরি রুপা থাকার কথা থাকলেও সেখানে স্বর্ণ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩৬৩ গ্রাম (সোয়া তিন আনা)। এক ভরির মধ্যে প্রায় ১২ আনাই ছিল না। আর রুপার বদলে ৩০ ভরি বা ৩৫১ গ্রাম পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু পাওয়া গিয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow