Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৬
দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা
শোলাকিয়ায় নিরাপত্তাবলয়
নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রাজধানীসহ সারা দেশ। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রাখা হয়েছে প্রস্তুত।

কূটনৈতিক এলাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। কূটনীতিক ও উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত বিদেশিদেরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত শোলাকিয়ার নিরাপত্তায় র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি এবার বিজিবিও থাকছে। জাতীয় ঈদগাহর জামাতে অংশ নিতে হলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করতে হবে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে   লঞ্চ, বাস, রেল স্টেশন ছাড়াও কোরবানির পশুর হাটে। ফাঁকা রাজধানীর বাসাবাড়ির নিরাপত্তায়ও জোরদার করা হয়েছে পুলিশের টহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি তত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় এবং হামলার আশঙ্কা থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা দেশের নাগরিকরা জঙ্গিদের টার্গেট হওয়ায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সরকার। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ কর্মকর্তাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়। সূত্র জানায়, রোজার ঈদে শোলাকিয়ায় হামলার পর সারা দেশের ঈদ জামাতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গোয়েন্দারা আমাদের যে তথ্য দিচ্ছেন বা দেবেন তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি ঈদগাহেই পূর্ব সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা নগরীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা যেন দেশবাসী উদ্যাপন করতে পারে, সেজন্য সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ; পশুর হাট, ঈদ জামাতস্থলসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া ঈদের দিন অস্থায়ী চামড়া ক্রয় কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হবে এবং পশুর চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে প্রস্তুত। পুলিশ ও র‌্যাব জানায়, রাজধানীসহ দেশজুড়েই নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া থাকছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াত, মোটরসাইকেলে টহল, ফুট পেট্রল ও তল্লাশি চৌকি। ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে যানজট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি রোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। জাল টাকা বিস্তার ও লেনদেন ঠেকাতে পশুর হাটগুলোয় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন শোলাকিয়া মাঠ ও এর আশপাশে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), এলিট ফোর্স র‌্যাব, সোয়াত ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে পুরো ঈদগাহে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে মুসল্লিদের ময়দানে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। তা ছাড়া মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন পর্যন্ত টহলে নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব-পুলিশ। ময়দানের প্রধান গেটের মুখে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক দুটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ বসানো হয়েছে। থাকছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি)। থাকছে সাতটি ডগ স্কোয়াড। এ ছাড়া থাকছে অত্যাধুনিক মেটাল ডিটেক্টর। শরীরে স্পর্শ করা ছাড়াই সন্দেহভাজন কিছু শনাক্ত করা যায় এসব ডিটেক্টর দিয়ে। শিক্ষা ভবন, হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও প্রেসক্লাব এলাকায় আলাদা চেকপোস্ট বসানো হবে। ঈদগাহের ভিতরে ঢোকার মুখে আবারও চেকপোস্ট থাকবে। সূত্র জানায়, দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। চিঠিতে বলা হয়, ছুটির দিনে অফিস, আদালত, ব্যাংকপাড়া বন্ধ থাকবে। টানা ছুটির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলো বন্ধ হওয়ার পর কোনো অপরিচিত লোক ব্যাংকের ভিতরে যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তীক্ষ নজর রাখতে হবে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড় ও পশুর হাটে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে বাইনোকুলার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতিকারীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিটি পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, সাদা পোশাকে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন, যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন, দেশব্যাপী ঈদ জামাত ঘিরে ও ছুটিকালীন দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে শোলাকিয়া : গত ঈদুল ফিতরের দিন জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে প্রশাসন এবার শোলাকিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল আজহার বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। এটি হবে ১৮৯তম ঈদুল আজহার জামাত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। জামাতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসঊদ। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, ঈদুল ফিতরের দিন সন্ত্রাসী হামলা যে সাহসিকতার সঙ্গে আমরা মোকাবিলা করেছি, সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এবার কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাজিয়েছি। সার্বিক নিরাপত্তায় তিন প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা সক্রিয় থাকবে। ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও দেওয়া হবে। পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান জানান, ঈদজামাতকে কেন্দ্র করে তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠে প্রবেশ করতে মুসল্লিদের তিন স্তরে তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো হবে। তা ছাড়া মাঠের ভিতরে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। বিজিবি ও র‌্যাবের টহল দলও থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে সবার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মুসল্লিরা ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow