Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫১
বাড়ি যেতে চাওয়ায় সারা শরীরে গরম ছেঁকা
গৃহকর্তা গ্রেফতার
চাঁদপুর প্রতিনিধি
বাড়ি যেতে চাওয়ায় সারা শরীরে গরম ছেঁকা

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নয়ানী গ্রামের মো. মন্টু মাতাব্বরের ৯ বছরের শিশুকন্যা গৃহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতকে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন তার গৃহকর্ত্রী। ঢাকার বিমানবন্দরে চাকরিরত মো. ওমর ফারুকের বাসায় সে ঝিয়ের কাজ করছিল।

এক বছর ধরে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তার পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেন  ওমর ফারুকের স্ত্রী মণি বেগম। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ওমর ফারুককে গাজীপুর থেকে ও শিশুটির সরবরাহকারী জড়িত মোস্তফা সরদার নামে একজনকে আটক করেছে হাইমচর থানা পুলিশ। খবর পেয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নির্যাতিত জান্নাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সঙ্গে করে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জানা যায়, নয়ানী গ্রামের মন্টু মাতাব্বরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে গত বছর একই গ্রামের মোস্তফা সরদার তার শ্যালিকা মণি বেগমের বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যান। এক বছর ধরে অসহায় শিশু জান্নাতের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত করে আসছিলেন গৃহকর্ত্রী। বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মেরে জান্নাতের পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত ও মাথা দেয়ালে আঘাত করে বিভিন্ন জায়গা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে দুই দিনে একবার খাবার এবং বাথরুমে ঘুমাতে দেওয়া হতো বলে আহত শিশু ফেরদৌস জানায়। নির্যাতিত শিশুর মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমি বড় অসহায়। আমার স্বামী আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। বৃদ্ধ মা ভিক্ষা করে আমার ও সন্তানদের দুই বেলা খাবার জোগান দেন। এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোস্তফা সরদার আমাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার মেয়েকে তার শালীর বাসায় নিয়ে যায়। এক বছর ধরে আমি আমার মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তারা যোগাযোগ করতে দেয়নি। ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মোস্তফা সরদার আমার মেয়েকে বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় রেখে চলে যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow