Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
জোট নেই, শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি
জোটের রাজনীতি ভোটের রাজনীতি - যশোর
সাইফুল ইসলাম, যশোর
জোট নেই, শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। জোটের মধ্যে সমন্বয়, কর্মসূচি, মিটিং-সিটিং সব হয় ঢাকাতেই, জেলা পর্যায়ে এর ছিটেফোঁটাও নেই। এমনকি সর্বশেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনেও তারা কেউ যশোরে জোটগতভাবে প্রার্থী দেয়নি। আগামীতেও এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে মনে করছেন যশোরের শীর্ষ রাজনীতিকরা। তারা বলছেন, যশোরে আসলে প্রধান দুই জোটের অস্তিত্ব নেই, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ এককভাবেই সব কিছু করছে।

১৪ দলীয় জোটে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ : যশোরে প্রথম দিকে ১৪ দলের ২/৩টা মিটিং হলেও এরপর আর কোনো মিটিং হয়নি। শরিক দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করছেন, কেন্দ্র থেকে বারবার বলা হলেও এখানে কোনো সমন্বয় করা হয় না। বিভিন্ন ইস্যুতে শরিক দলগুলো পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যশোর জেলা ১৪ দলের সমন্বয়ক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, জোটগতভাবে আমরা যশোরে সক্রিয় আছি, একসঙ্গে রাজপথে আছি। সাম্প্রতিককালে জঙ্গিবাদবিরোধী ইস্যুতে আমরা যশোর শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করেছি, যেখানে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শাহীন চাকলাদার বলেন, আমাদের এসব কর্মসূচিতে কেবল ১৪ দলই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতি করেন ১৪ দলের বাইরে থাকা এমন অনেক দলও আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকে। তবে তিনি বলেন, কিছু দিন ধরে লক্ষ করছি ওয়ার্কার্স পার্টি একটু অন্যরকম ... ওরা আমাদের কর্মসূচিতে সমর্থন দেয়, আবার নিজেরা আলাদা প্রোগ্রাম করে। জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা মহাজোটে ছিল, ১৪ দলে নেই। সে কারণে তারা আলাদা প্রোগ্রাম করে। তবে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী বলেন, মহাজোট না থাকলে জাতীয় পার্টি থেকে মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত বানানো হলো কেন। তিনি বলেন, মহাজোট বা ১৪ দলীয় জোট যাই বলা হোক না কেন, জোটের মধ্যে যেভাবে সমন্বয় হওয়া দরকার, সেটা আওয়ামী লীগ কখনো করে না। যশোরে আজ পর্যন্ত জোটগতভাবে কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হয়নি। এখানে আওয়ামী লীগ এককভাবেই সব কিছু করে, সিদ্ধান্তগুলোও এককভাবে নেয়, কাউকে তারা ডাকে না। সরু চৌধুরী বলেন, জোটের সুবিধা যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তা কেবল কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ, জেলা পর্যায়ে কোনো কিছুতেই তারা জাতীয় পার্টির কোনো অংশগ্রহণ রাখে না। এভাবে কোনো জোট চলতে পারে না। অতএব জোট না থাকাই ভালো। জেলা জাসদের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, মহাজোট তো আছেই, না হলে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী আছে কী করে! তিনি বলেন, মহাজোট হয়েছিল কর্মসূচিভিত্তিক, আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার গঠন একই সঙ্গে হবে, এমন সমঝোতায়। মহাজোট সরকার গঠনের পর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল থেকে মন্ত্রী করা হলো। এরপর ঢাকায় জোটের মিটিং হয়। জেলা পর্যায়েও জোটের সমন্বয় মিটিং করার জন্য কেন্দ্র থেকে বারবার বলা হলেও প্রথম দিকে ২/৩টা মিটিং ছাড়া কার্যকর কোনো সমন্বয়ই হয়নি। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারেও শরিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোনো আলোচনা করেনি। কেন্দ্র থেকে সমন্বয়ের ব্যাপারে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও সেটি কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে রবিউল আলম বলেন, সে মূল্যায়ন আমরা করব না, কেন্দ্রই করুক।

একলা চলো নীতিতে বিএনপি : যশোরে বেশ কিছুকাল ধরেই ২০ দলীয় জোট বলে আসলে কিছু নেই। বিএনপি চলছে একলা চলো নীতিতে। তাদের কোনো কর্মসূচিতেই শরিক দলগুলোর কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কয়েকজন নেতার মুঠোফোনে রিং করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ২০ দলের যশোরের প্রধান সমন্বয়ক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, মামলা-মোকদ্দমার কারণে কোনো কর্মসূচিতেই জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পাওয়া যায় না। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে অন্য শরিকদের (ইসলামী ঐক্য জোট, খেলাফতে মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা) ভূমিকা রাখার মতো সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন, অবরোধ কর্মসূচির অনেক আগে থেকেই যশোরে ২০ দলের কোনো বৈঠক হয় না। এখানে বিএনপি মূলত একলা চলো রে নীতিতেই চলছে। সাবু বলেন, এখন তো রাজনীতি করার পরিবেশ নেই, কথা বলার সুযোগ নেই। প্রোগ্রাম করতে হচ্ছে গোপনে। প্রতিবাদ সমাবেশের মতো কর্মসূচি, তাও অনুমতি নিয়ে ঘরের মধ্যে করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু জোট করলেই হবে না, আমার দলকেও বাঁচাতে হবে। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচন যশোরে আমরা জোট ছাড়াই এককভাবে করেছি। যে দুই দফা ভালো নির্বাচন হয়েছে, সেখানে বিএনপি প্রার্থীরা খুবই ভালো ফল করেছে। পরে তো আর ভোট হয়নি। সাবু বলেন, বিএনপিকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে। মাঝে ভুলপথে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার দেশের সম্পদ লুট হচ্ছে, আমার জমি প্রায় বিনামূল্যে অন্যরা ব্যবহার করছে। এসব ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ ছাড়া অন্য কোনো দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি যদি মুভমেন্ট শুরু করে, আর জনগণ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে বিএনপি একাই যথেষ্ট।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow