Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৭
দুই ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট পথে পথেও দুর্ভোগ
প্রতিদিন ডেস্ক
দুই ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট পথে পথেও দুর্ভোগ
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে আবার কর্মব্যস্ত রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গতকাল সকালে ঢাকা সদরঘাট থেকে তোলা ছবি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

পথে পথে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাড়ি থেকে রাজধানীতে ফেরা মানুষ। একসঙ্গে এত মানুষ ঢাকায় ফেরার কারণে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

বিশেষ করে বিভিন্ন ফেরিঘাটে রয়েছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোনো কোনো ফেরিঘাটে যানজট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীর তুলনায় যানবাহন কম হওয়ার সুযোগে বেশি ভাড়া হাঁকছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তি চরম রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট : দফায় দফায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট সমস্যার কারণে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকাগামী লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঈদ শেষে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। গতকাল সকালে সরেজমিনে দৌলতদিয়ায় গিয়ে দেখা যায় যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ লাইন। ঢাকাগামী যাত্রী ইউসুফ, ইকবাল মাহমুদ ও ইয়াসমিন জানান, প্রায় ১১ ঘণ্টা যানজটে থেকে অবশেষে ফেরিতে উঠতে পেড়েছেন তারা। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় পারে চারটি করে ফেরিঘাট রয়েছে। পাটুরিয়া প্রান্তে কোনো সমস্যা না থাকলেও দৌলতদিয়া প্রান্তে দুই নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। বাকি তিনটি ঘাট মেরামতের মধ্যেই ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। সবগুলো ঘাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে ঘাটগুলো। বালির বস্তা ফেলে ঘাট সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঘাট সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঢাকামুখী যাত্রীদের। এর ওপর হাঁকা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

কাওড়াকান্দি ঘাট : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাঁচ্চর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে সাত শতাধিক যানবাহন। গতকাল সকালে ঈদের ছুটি শেষে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন। এতে কাওড়াকান্দি ঘাটে নামে জনতার ঢল। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘাট এলাকায় বাড়তে থাকে যানজট। সৃষ্টি হয় দুর্ভোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যত্রতত্র যানবাহন পার্ক করার কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কর্মমুখী মানুষের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শিবচরের পাঁচ্চর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যের ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে উঠতে হচ্ছে। এতে করে নারী ও শিশুরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে সাত শতাধিক যানবাহন। নাব্যতা সংকটের কারণে নৌপথে প্রায় ১৬ কি.মি. দূরত্বে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের ১৪টি ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকরা যাত্রীদের মারধর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। সব মিলিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

শিমুলিয়া ঘাট : মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঈদের পাঁচ দিন পর গতকালও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে ঢাকামুখী শিমুলিয়া ঘাটে। সকাল থেকে দিনভর এসব ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। অন্যদিকে সকাল থেকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোটসহ প্রতিটি নৌযানে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে পদ্মা পাড়ি দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ঢাকাগামী বিপুলসংখ্যক যাত্রী। ফলে শিমুলিয়া ঘাটে চরম দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার বিআইডব্লিউটিসির মাওয়ার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. খালিদ নেওয়াজ ও শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার (বাণিজ্য) শেখর চন্দ্র রায় জানান, শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন ফেরি দিয়ে পারাপার করছেন তারা। মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। মাওয়া মহাসড়কে ছোট-বড় চার শতাধিক গাড়ির লাইন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি, শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি থেকে শিমুলিয়ার দিকে ছেড়ে আসছে প্রতিটি নৌযান। শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরিতে যাত্রীদের বেশ চাপ রয়েছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রায় প্রতিটি পরিবহন কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির অপেক্ষায় শিশু, মহিলা, বৃদ্ধসহ অসংখ্য যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় পরিবহন সংকটের সুযোগে মাওয়া থেকে গুলিস্তান ও মাওয়া থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সিটিং সার্ভিস কাউন্টারভিত্তিক পরিবহনগুলো ৭০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা এবং লোকাল পরিবহনগুলো ছাদে ৫০ টাকা এবং ভিতরে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায় করেছে। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসের ভিতরে দাঁড়িয়ে ও ছাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বেশ কিছু পরিবহন। এতে সড়ক ও নৌপথে চরম দুর্ভোগে পড়েন কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow