Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫০
হিলারিকে বন্দুক ছাড়া থাকতে বললেন ট্রাম্প
মার্কিন নির্বাচন
প্রতিদিন ডেস্ক
হিলারিকে বন্দুক ছাড়া থাকতে বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী তত্পরতা জমে উঠেছে। মূল দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অন্যকে ঘায়েল করতে প্রতিনিয়তই নানা বক্তব্য উত্থাপন করছেন। সর্বশেষ বক্তব্যে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের নিরাপত্তারক্ষীরা বন্দুক ছাড়া থাকুক, তখন দেখা যাক কী ঘটে।’ সূত্র : বিবিসি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহরে এক নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ (গান কন্ট্রোল) আইন পরিবর্তনে হিলারি ক্লিনটনের ইচ্ছার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো হিলারিকে হত্যায় উসকানি দিলেন বলে দাবি ডেমোক্রেটদের।

একই সঙ্গে দাবি করা হয়, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে সহিংসতাও উসকে দেওয়া হচ্ছে।

মায়ামির প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (হিলারি) বন্দুক চান না। আমি মনে করি, তার দেহরক্ষীদের বন্দুক ছাড়া থাকা উচিত। তাদের বন্দুক নিয়ে নেওয়া হোক এবং দেখা যাক তার (হিলারির) কী ঘটে। এটি হবে অতি ভয়ঙ্কর।’      জবাবে হিলারি ক্লিনটনের এক মুখপাত্র রবি মুক বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের খেপানোর জন্য, অনানুষ্ঠানিকভাবে অথবা কৌতুক করে এ কথা বলা হলেও এটি কমান্ডার ইন চিফ হতে ইচ্ছুক কারও জন্য প্রযোজ্য নয়। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এমন কথাবার্তা বলা উচিত নয়।’ উল্লেখ্য, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প ও হিলারি দুজনকেই নিরাপত্তা দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, হিলারি ক্লিনটন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার কথা বললেও মার্কিন সংবিধানের আত্মরক্ষার অধিকারের সমর্থক তিনি। গত জুলাইয়ে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে হিলারি বলেন, ‘আমি আপনাদের বন্দুক নিয়ে যেতে আসিনি।’ এর আগেও হিলারি ক্লিনটনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার বিষয় টেনে ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে নর্থ ক্যারোলিনায় এক প্রচারণায় ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ উঠিয়ে দিতে চান। তিনি যদি বিচারকদের বাগাতে পারেন, তাহলে মার্কিন জনগণ কিছুই করতে পারবে না।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমেও ট্রাম্প সহিংসতার উসকানি ও হিলারির প্রতি জনগণকে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন ডেমোক্রেটরা।

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে আমেরিকান— তা মানতে ?ভীষণ আপত্তি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ‘ছিল’ বলতে হচ্ছে এ কারণে যে এখন তিনি আর এমনটা মনে করেন না। নানা বিতর্ক, তত্ত্ব-তথ্য হাজিরের পর অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন, ওবামা আমেরিকান। সূত্র : এএফপি। হিসপানিকদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওবামার নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের জন্য এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, ২০০৮ সালে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমে হিলারিই ওবামার বিরুদ্ধে ওই দুর্নাম ছড়িয়েছিলেন। ট্রাম্পের নিজের মুখে বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ার আগে শুক্রবার তার প্রচারকর্মী দল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। আর বিষয়টি তারা লিখিত বিবৃতিতে জানান। বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম না হলে কেউ অন্যভাবে নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ আইনজ্ঞ মনে করেন, সংবিধান ‘ন্যাচারাল বর্ন সিটিজেন’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া অথবা মা-বাবার একজন মার্কিন নাগরিক হওয়াকে বুঝিয়েছে। ওবামার নাগরিকত্ব বিষয়ে তার প্রতি অভিযোগ তোলার জবাবে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘বর্ণবাদী জন্ম বিতর্ক প্রচারণায় নেতৃত্ব নিয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তরসূরি হতে পারেন না এবং হবেনও না।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow