Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১১
বিমানের ফ্লাইটে শিডিউল বিপর্যয় ভুগছেন হাজীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ঘটতে থাকায় হাজীরা মারাত্মকভাবে হতাশায় ভুগছেন। সন্ধ্যারাতের ফ্লাইট ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে মধ্যরাতে।

ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই যাত্রীরা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, মোয়াল্লেমের গাফিলতিতে তাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত শনিবার প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। শনিবার দিনগত রাত পৌনে ৩টায় প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে। যা রাত ৮টা ৪০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা ছিল।

বাংলাদেশ বিমানের চারটি ফ্লাইটে গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৪ জন হাজী দেশে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে শনিবার রাত পৌনে ৩টার ফ্লাইটে ৪১৯ জন, গতকাল সকাল ১০টার ফ্লাইটে ৩১৭ জন, দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ল্যান্ড করা ফ্লাইটে ৪১৯ জন এবং রাত ১০টার ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজী ছিলেন। বিমানের জনসংযোগ শাখার তাসনিম আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে ফ্লাইট বিলম্ব প্রসঙ্গে বলেন, জেদ্দায় বিমানবন্দরে পৌঁছাতে অনেক দেরি করায় প্রথম ফ্লাইটের নির্ধারিত শিডিউল পেছানো হয়। ধীরে ধীরে এই বিলম্ব কমে আসছে। রাত সোয়া ১০টায় ঢাকায় যে ফ্লাইট ল্যান্ড করবে, তা অলরেডি ফ্লাই করেছে। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হাজী জানান, মোয়াল্লেমের শুক্রবার রাত ১১টায় হোটেলে বাস পাঠানোর কথা ছিল। সে বাস গিয়েছে শনিবার ভোর ৬টায়। মোয়াল্লেমের অফিস থেকে পাসপোর্ট চেকিং করে এয়ারপোর্টে আসতে দুপুর ১টা বেজে যায়। বিমানের ব্যবস্থাপনায় নয়, মোয়াল্লেমের গাফিলতিতে এমন হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তারা বলেছে— আপনাদের দেরি হলো কেন? আমরা তো প্রস্তুত ছিলাম।

 আরেক হাজী মনিরুজ্জামান বলেন, মোয়াল্লেমরা ঘুরছে, ঘুমাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলে কিছু বলতে চায় না। দীর্ঘ সময় হাজীরা হোটেল, বিমানবন্দরে বসে থাকলেও তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। নূর হোসেন নামে একজন হাজী বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে হোটেলে গাড়ি পাঠানোর কথা ছিল, সে গাড়ি এসেছে ভোর ৬টায়। কিছু হাজীকে এনে বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। আমাদের ২ দিন, ৩ রাতের ঘুম-খাওয়া নেই। গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মোয়াল্লেমরা খোঁজও নেননি। মাসুমা ফেরদৌস নামে এক হাজী জানান, তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরের বাইরে একটি টিনশেডের মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বসেছিলেন।

একজন যাত্রী বলেন, মোয়াল্লেমের পাঠানো গাড়ি করে হোটেল থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে চলে আসি। ভিতরে ঢুকতে পারিনি ভিসা-পাসপোর্ট মোয়াল্লেমের কাছে থাকায়। বাইরে একটি শেডের নিচে বসতে হলো। চারদিক খোলা শেডে নেই কোনো পাখার ব্যবস্থা। প্রচণ্ড গরম। কিছুক্ষণ পরপর বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে মোয়াল্লেম আসছেন কিনা জিজ্ঞাসা করি। বলে আপনাদের মোয়াল্লেম আসেনি, কাগজপত্র দেয়নি।

বিমানের প্রথম ফ্লাইটে আসা হাজীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে (স্থানীয়) জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪১৯ জন হাজী নিয়ে রওনা হয়। রাত ২টা ৫০ মিনিটে অর্থাৎ সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছে। হাজীরা বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার চেয়ে মোয়াল্লেমদের গাফিলতির জন্য তাদের শাস্তি দাবি করেন। হাজীদের ঢাকায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তাদের নিতে আসা শত শত আত্মীয়-স্বজন বিমানবন্দরে বেশ কষ্টের মধ্যে সময় পার করেন।

বিমানবন্দর থেকে জানা যায়, মিনা থেকে জেদ্দায়  পৌঁছাতে অনেক যাত্রী সময় বেশি নেন। এ কারণে শিডিউল পেছানো ও নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করা হয়। এই ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজী দেশে ফিরেছেন। ফিরতি হজ কার্যক্রম ১ মাস ধরে চলবে। ১৭ অক্টোবর বিমানের সর্বশেষ ফ্লাইটটি ঢাকায় আসবে বলে বিমান সূত্র জানিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow