Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
সমন্বয়হীন জোট মহাজোট
জোটের রাজনীতি ভোটের রাজনীতি - সিলেট
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
সমন্বয়হীন জোট মহাজোট

সিলেটে সমন্বয়হীনভাবে চলছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। জোটের সমন্বয়ক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যুর পর থেকে গত এক বছর ধরে এই জোটের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বেড়েই চলছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটও সিলেটে অস্তিত্বহীন। নামে ২০-দলীয় জোট হলেও বিএনপি,  জামায়াত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ছাড়া জোটের অন্তর্ভুক্ত অন্য কোনো দলের চোখে পড়ার মতো কার্যক্রম নেই সিলেটে। দুই জোটের এই সমন্বয়হীনতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গত পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনেও।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট হলেও সিলেটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ‘একলা চল’ নীতিতেই চলছে। ভোটের রাজনীতিতে জোটভুক্ত দলগুলোর কদর কিছুটা থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে জোটভুক্ত দলগুলোকে পাত্তা দিতে চায় না আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

সিলেটে ১৪ দলীয় জোট চলছে সমন্বয়হীনভাবে। জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর কোনো সমন্বয় নেই। নামে ১৪ দল হলেও সিলেটে এ জোটের চার-পাঁচটি দল ছাড়া বাকিগুলোর অস্তিত্ব বোঝা দায়। আওয়ামী লীগ ছাড়া জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল ও গণতন্ত্রী পার্টি মাঝেমধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। কিন্তু বাকি ৮ শরিকের কোনো অস্তিত্বই নেই সিলেটে। অন্যদের গুরুত্ব না দিয়ে আওয়ামী লীগের ‘একলা চল নীতিতে’ নাখোশ জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। এ ছাড়া প্রায় এক বছর আগে জোটের সমন্বয়ক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যুর পর নতুন সমন্বয়ক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর জন্য আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই  দায়ী করছেন শরিকরা। তবে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, সিলেটে ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যত কর্মসূচি আসে, তা জোটভুক্তভাবে পালন করা হয়। এ জোটের মধ্যে কোনো আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের কার্যক্রম সিলেটেও চলছে। সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমদ বলেন, সম্প্রতি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী একটি মানববন্ধন পালন ছাড়া সিলেটে দীর্ঘদিন ১৪ দলের ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যুর পর নতুন সমন্বয়ক না থাকায় অনেকটা অগোছালোভাবে চলছে ১৪ দলের কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়া কখনো একসঙ্গে বসা হয় না ১৪ দলের নেতাদের। সিলেট জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী বলেন, সিলেটে ১৪ দলীয় জোটের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। নিয়মিত কোনো কর্মসূচিও নেই। আওয়ামী লীগের নিজস্ব সমস্যায় জোট অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক। তিনি মারা যাওয়ার পর এ জোট সমন্বয়হীন। ভোটের রাজনীতি এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্র্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে সিলেটে ১৪ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করতে হবে। এদিকে সিলেটে ২০-দলীয় জোট শুধু নামেই আছে। বাস্তবে মাঠের রাজনীতিতে ২০-দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (ওয়াক্কাস) ও খেলাফত মজলিস (ইসহাক)। এর বাইরে বাকি দলগুলো সিলেটে অস্তিত্বহীন বলা চলে। ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও আন্তরিকতা নেই বিএনপির। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত সিলেটে একীভূত হয়ে আন্দোলন করলেও পরবর্তীতে সিলেটে এ দুই দলের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছেই। বর্তমানে সিলেটে জামায়াতকে ‘এড়িয়ে চল’ নীতিতেই চলছে বিএনপি। এর বাইরে জোটভুক্ত আরও যে কয়টি দলের অস্তিত্ব সিলেটে রয়েছে সে দলগুলোর সঙ্গে কদাচিৎ যোগাযোগ রাখে বিএনপি। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, সিলেটে ২০-দলীয় জোটের কোনো সমন্বিত কার্যক্রম নেই। তবে জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, সিলেটে জোটগতভাবে কোনো কার্যক্রম নেই। জোটভুক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসাও হয় না। বর্তমানে কর্মসূচি ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয় না। এদিকে জোটের রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোট কিংবা ২০-দলীয় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির কাছে অন্যান্য শরিক দলগুলোর সমন্বয়হীনতার নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে বিগত পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে। জোটে সমন্বয়হীনতার কারণে সর্বশেষ পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে অনেক স্থানেই ১৪ দলীয় জোটের শরিক অন্য দলগুলোর নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ২০-দলীয় জোটেও একই অবস্থা ছিল। এ জোটের প্রধান শরিক বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রের ব্যানারে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow