Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪
ইয়াবা বাণিজ্যের গোপন তথ্য ফাঁস
ঢাকার ইয়াবা সম্রাট রাসেল নারায়ণগঞ্জ ডিবির হাতে
সাঈদুর রহমান রিমন

রাজধানীর ইয়াবা সম্রাট ফয়সাল ইসলাম রাসেল এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের খাঁচায়। সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর এলাকা থেকে সাড়ে চার সহস্রাধিক ইয়াবাসহ গ্রেফতারের পর রাসেলকে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

দুই দিন রিমান্ডের প্রথম দিনেই রাসেল ইয়াবা আমদানি, সরবরাহ, বাজারজাতসহ মাদক নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য ফাঁস করেছে। বিনিয়োগসহ ইয়াবা বাণিজ্য সম্প্রসারণের পেছনে সক্রিয় থাকা গডফাদারদের নামও অবলীলায় প্রকাশ করে দিয়েছে রাসেল। সমাজে ভালো মানুষের মুখোশ পরে থাকা শিল্পপতি, ক্ষমতাসীন দলের ডাকসাইটে নেতাসহ প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির ইয়াবা বাণিজ্যে সম্পৃক্ততার তথ্য জেনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও রীতিমতো অবাক বনে যান। রাজধানীর গুলশান-বারিধারা, ধানমন্ডি, উত্তরার অভিজাত এলাকায় মাদক বাণিজ্যকে চাঙ্গা করতে ইয়াবার সঙ্গে নারী ও জুয়ার সমন্বয় ঘটিয়েছে রাসেল চক্র। তাদের ব্যবস্থাপনায় প্রতি রাতেই ঢাকায় অন্তত ১০টি রমরমা জুয়ার আসর বসছে। সেসব আসরে ধনাঢ্য ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পর্যন্ত অংশ নিয়ে থাকেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির পরিদর্শক মাহমুদুল ইসলাম পিপিএম জানান, ইয়াবা সম্রাট রাসেল খুবই ধূর্ত প্রকৃতির পেশাদার অপরাধী। বিভিন্ন সময় থানা-পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে বারবারই রাসেল বেরিয়ে যায়। তার পক্ষে সমাজের উঁচু পর্যায়ের লোকজন তদবির-সুপারিশের চাপ সৃষ্টি করে থাকে।

ডিবি পরিদর্শক বলেন, অনেক ধরনের কৌশল খাটিয়ে, প্রমাণাদি হাজির করে তবেই রাসেলের মুখ থেকে তথ্য বের করা সম্ভব হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাইকারিভাবে ইয়াবা বিক্রির দায়িত্ব পালনকারী অর্ধশতাধিক এজেন্টের নাম ফাঁস করে দিয়েছে রাসেল। এদের মধ্যে অনেকে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরেই কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়ামের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোরী-তরুণীদের যেসব কৌশলে ইয়াবা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তা রাসেলের মুখে শুনে খোদ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও তাজ্জব হন। সংশ্লিষ্টরা জানান, কোমলমতি অনেক কিশোরী শিক্ষার্থীকে শুধু নেশার জালে ফেলেই ইয়াবা পাচারকারী বানিয়ে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে তারা আসক্তদের আনন্দ বিনোদনের জোগানদাতা হয়ে ওঠেন। রাসেল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে গুলশান-বারিধারা ও উত্তরায় বসবাসকারী দুই শতাধিক বিদেশি নাগরিক নিয়মিত ইয়াবাসেবী রয়েছেন। তাদের কাছে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা ছাত্রীদের দ্বারাই ইয়াবার সরবরাহ দেওয়া হয়। ভিনদেশি এ খদ্দেরদের আনন্দ বিনোদন, নেশাসহ সব ধরনের অপকর্মেই জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা সরবরাহকারীরা। এ সরবরাহ কাজের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট মেয়েরা বিনামূল্যে ইয়াবা সেবনসহ তাদের দৈনন্দিন খরচ পেয়ে থাকেন। এর বিনিময়ে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন তারা।

ইয়াবার ভয়ঙ্কর বাণিজ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে পরপর কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারে রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইয়াবায় আসক্ত ছাত্রীরা ভুগছেন গোপন ভিডিওর আশঙ্কায়। এদিকে অভিজাত এলাকায় ইয়াবা নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অনেক যুবক হঠাৎ করেই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। নেটওয়ার্কের মূল হোতা ফয়সাল ইসলাম রাসেল ডিবি হেফাজতে যাওয়ার পরপরই গ্রেফতারের আশঙ্কায় ইয়াবা কর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির পরিদর্শক মাহমুদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ভয়ঙ্কর নেশা ইয়াবা বাণিজ্য নির্মূলের ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ মামলার তদন্ত ক্ষেত্রে ইয়াবা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায় কোনো প্রভাবের কাছে নতি স্বীকারের প্রশ্নও ওঠে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow