Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৫
অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে ২০ ভাগ আর্থিক সুবিধা
রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ
আলী রিয়াজ

রপ্তানি বাড়াতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকদের নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

রপ্তানিমূল্যের ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। এসব পণ্যে চলতি অর্থবছরেই সহায়তা পাওয়া যাবে। দেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন সব নিত্যনতুন পণ্য কয়েক বছর ধরেই যোগ হচ্ছে রপ্তানি খাতে। ক্ষুদ্র পরিসরে উৎপাদিত এসব পণ্যে ব্যাংকগুলোর সহায়তা না পাওয়ায় রপ্তানিতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে উদ্যোক্তারা সমস্যায় রয়েছেন। এবার এসব উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রপ্তানিতে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে এমন পণ্যের মধ্যে রয়েছে হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া, শাক-সবজি/ফলমূল, আলু, হালকা প্রকৌশল পণ্য, হালাল মাংস, পেট বোতল, ফ্লেক্স, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ; শস্য ও শাক-সবজির বীজ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন। এ ছাড়া সাভারে স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানের চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, জাহাজ রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজে করে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ সহায়তা পরিশোধ্য হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অপ্রচলিত এসব পণ্যের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় চীনে। এ ছাড়া কোরিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের দেশগুলোয়। কিছু পণ্যের চাহিদা পাশের দেশ ভারত, ভুটান, শ্রীলঙ্কায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা এবং এ খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা আগের মতো ৪ শতাংশ রাখছে। তবে বস্ত্র খাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণে ৩ শতাংশ সহায়তা, হাতে তৈরি পণ্য (হোগলা, খড়, ছোবড়ার পণ্য) ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য ও হালাল মাংস রপ্তানিতে ভর্তুকি ২০ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা করেছে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিতে বরফ আচ্ছাদনের হার ৭ থেকে ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে পণ্যভেদে ৫ থেকে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেবে। এ ছাড়া ফার্নিচার রপ্তানির বিপরীতে ১৫, প্লাস্টিক দ্রব্য ও গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি রপ্তানির বিপরীতে ১০, সাভারের ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রপ্তানির বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে রপ্তানি ভর্তুকি দেওয়া হবে। শস্য ও শাক-সবজির বীজ ও পাটকাঠির কার্বন রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ হারে রপ্তানি ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেওয়া হবে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত ট্যানারি শিল্পের চামড়াজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তার হার ১৫ ও জাহাজ রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি ভর্তুকির হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পণ্যে আগেও প্রণোদনা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ অপ্রচলিত পণ্যে রপ্তানি সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে রপ্তানিকারকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের ডিজিএম জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, উদ্যোক্তাদের এলসির আওতায় রপ্তানি-পরবর্তী পর্যায়ে দলিলাদি কিংবা ডকুমেন্টারি কালেকশন করতে হবে। রপ্তানি আয়ের বিপরীতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখায় রপ্তানিকারকরা রপ্তানি ভর্তুকির জন্য ফরম আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন। টিটির মাধ্যমে অগ্রিম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসনের শর্তযুক্ত এলসির বিপরীতে রপ্তানির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখাকে বিদেশি ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্য এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে এ সহায়তা পাওয়া যাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow