Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৫
নোভা-বাদশার জমকালো বিয়ে
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
নোভা-বাদশার জমকালো বিয়ে

সর্বত্র ছিল বর্ণিল সাজ। টাঙানো হয় রংবেরঙের বেলুন।

শোভা পায় ফেস্টুন-ব্যানার। পুরো আঙিনা পরিগ্রহ করে ছিল বিয়ে বাড়ির আমেজে। সাজানো হয় বর্ণিল গেট। ছিল আলোর ঝলকানি। বিয়ের স্মারক হিসেবে উড়ানো হয় বেলুন। বর্ণাঢ্য আয়োজনের নানা অনুষঙ্গের এতটুকু কমতি ছিল না। ব্যতিক্রমী এসব চিত্র চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার।

গতকাল দুপুরে সিংহ বাদশার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সিংহী নোভার। বিয়ে উপলক্ষে সিংহের খাঁচায় ভালোবাসার প্রতীকে সাজানো হয় মাংস দিয়ে তৈরি কেক। কেক-এ ছিল ৪৭ কেজি মাংস। যার মধ্যে ছিল গরুর কলিজা, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, মাংস, দুটি মুরগিসহ সিংহের প্রিয় সব খাবার। তবে জেলা প্রশাসক সিংহ বাদশার নাম পরিবর্তন    করেছেন। সিংহী নোভার সঙ্গে মিল রেখে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নভ’। যার অর্থ আকাশ। সিংহের বিয়ের পর চিড়িয়াখানায় এবার আসবে উত্তর আফ্রিকা থেকে দুটি বাঘ। গতকাল কেক কেটে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের স্ত্রী ইশরাত জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) হাবিবুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন, চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ডেপুটি কিউরেটর মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, প্রাণী চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন শুভ প্রমুখ। চট্টগ্রামের বিয়ের রীতি অনুযায়ী ঘাটা ধরে (বিয়ের গেট ধরে) ৩ হাজার ১ টাকা পেয়েছেন তিন নারী সাংবাদিক। বিয়ে উপলক্ষে চিড়িয়াখানায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় ছিল। সকাল থেকে শুরু হয় দর্শকদের ভিড়। জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামবাসীর জন্য এ চিড়িয়াখানা বিনোদনের প্রধানতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের এ উদ্যোগ। এত দিন সিংহী ছিল দুটি। রংপুর চিড়িয়াখানার সঙ্গে সিংহ-সিংহী অদল-বদল করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রংপুর থেকে সিংহ বাদশাকে চট্টগ্রামে আনা হয়। এর মাধ্যমে সিংহের প্রজনন হবে। দর্শকরাও পুলকিত হয়ে পরিদর্শন করবে। তিনি বলেন, বিয়ের মাধ্যমে তাদের একসঙ্গে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হলো। চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, এই চিড়িয়াখানায় এখন একমাত্র অভাব বাঘ। তবে এরইমধ্যে এ ব্যাপারে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উত্তর আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আনা হবে দুটি বাঘ (একটি পুরুষ, একটি স্ত্রী)। আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে আনা বাঘ দুটি আগামী এক মাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম আসবে বলে আশা করছি। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৬ জুন এখানে জন্ম নেয় সিংহী নোভা ও বর্ষা। জন্মের আগে মারা যায় বাবা ‘রাজ’। জন্মের পর হারায় মা ‘লক্ষ্মী’-কে। দীর্ঘ একযুগ ধরে তারা ছিল মাতাপিতাহীন। এরপর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গত ১৮ জুলাই প্রাণিসম্পদ অধিদফতর চট্টগ্রাম-রংপুরের মধ্যে সিংহ বদলের সিদ্ধান্ত হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধান করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এখানে বর্তমানে ৬৫ প্রজাতির ৩৬৫টি প্রাণী আছে। এর মধ্যে ৩২ প্রজাতির পাখি ও ৩৩ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। বর্তমানে আছে দুটি সিংহী, একটি ভালুক, ১৮টি বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, ছোট-বড় ৩৪টি কুমির, ১১টি অজগর, তিনটি চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল, কাছিম, বানর ও বাঘডাস। আরও আছে ধনেশ, টিয়া, ময়না, বক, হাঁস, চিলসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। ১৮টি হরিণের মধ্যে আছে একটি প্যারা, চারটি মায়া, চারটি সম্বর ও নয়টি চিত্রা হরিণ। বানর প্রজাতির মধ্যে আছে হনুমান, রেসাস ও ঊল্টা লেজি। তবে চিড়িয়াখানায় বর্তমানে কোনো বাঘ নেই। ২০০৬ সালে মারা যায় বাঘ ‘চন্দ্র’। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার শেষ বাঘ ‘পূর্ণিমা’ মারা যায় ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow