Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩
অষ্টম কলাম
দাফনের আগে কেঁদে উঠল ‘মৃত’ শিশু
কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

মৃত ঘোষণার পর এক নবজাতকের বেঁচে ওঠার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ফরিদপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে। জন্ম নেওয়ার কিছু সময় পর চিকিৎসকরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দাফনের জন্য নেওয়া হয় গোরস্তানে। দাফনের আগমুহূর্তে নড়েচড়ে উঠে শিশুটি। পরে দ্রুত তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। বর্তমানে শিশুটিকে ডা. জাহেদ শিশু হাসপাতালের ইনকিউবিটরে রাখা হয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। তোলপাড় চলছে হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের মাঝে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ভোরে। ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন মিঠুর স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে বুধবার রাত ১১টার দিকে ভর্তি হন ফরিদপুরের বেসরকারি ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রসূতির তেমন একটা খেয়াল না রাখায় রাত ১টার দিকে নরমাল ডেলিভারি হয়। নাজনীন আক্তার জন্ম দেন একটি ছেলেসন্তান। বেশ কিছু সময় পর শিশু হাসপাতালে কর্তব্যরত গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয় স্বজনদের কাছে। লাশ একটি কার্টনে ভরে গোরস্তানে রাখা হয়। সারা রাত কার্টনের ভিতরেই থাকে শিশুটি। গতকাল ভোরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দাফন করার জন্য প্রস্তুতি নেন। সে মতে কবরও খোঁড়া হয়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম দোয়া-কলেমা পড়ে মাথা উত্তরদিকে আছে কিনা তা দেখতে কার্টনটি খুললে নড়েচড়ে উঠে শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে আবার নেওয়া হয় শিশু হাসপাতালে। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের ইনকিউবিটরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির মা অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার শিশু হাসপাতালের চতুর্থ তলার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় হতবাক শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা। শিশুর বাবা নাজমুল হোসেন মিঠু বলেন, লাশ দাফনের জন্য আলীপুর গোরস্তানে খোঁড়া হয় কবর। আলীপুর গোরস্তান মসজিদের ইমাম দাফনের সব আয়োজনও সম্পন্ন করেন। কিন্তু শিশুর লাশের মাথা কোনদিকে আছে দেখতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠে দাফন করার কাজে নিয়োজিতদের। এমন ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি চাই। শিশুটির দাদা আবুল কালাম জানান, চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পর শিশুটিকে গোরস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে লাশ দাফন করতে গিয়ে শিশুটি বেঁচে থাকার কথা জানতে পারি। আলীপুর গোরস্তানের কেয়ারটেকার বিল্লাল হোসেন বলেন, শিশুটির লাশের কার্টনটি খুললে দেখা যায় সে জীবিত রয়েছে। এ সময় অন্যরাও শিশুটিকে জীবিত দেখতে পান। বিষয়টি জানার পর গোরস্তানে ভিড় করে শত শত মানুষ। তাত্ক্ষণিক শিশুটিকে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত ডা. রিজিয়া আলম বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না। রিপোর্ট যা করার আমি অফিসে করেছি। বিষয়টিকে অনেকেই অলৌকিক ঘটনা বললেও এমন ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেছেন। ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শওকত আলী জাহিদ জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো রকম গাফিলতি থাকলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণার পর বেঁচে ওঠার ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় আর যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি শিশুর স্বজনদের।

up-arrow