Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১১
পর্যটক বাড়ছে, বাড়ছে ভোগান্তিও
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
মাহমুদ আজহার ও সরকার হায়দার
পর্যটক বাড়ছে, বাড়ছে ভোগান্তিও

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট দিয়ে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকদের যাতায়াত। অল্প সময়ে চারটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়তই এই চেক পোস্টের দিকে আগ্রহ বাড়ছে দেশি-বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের। অবশ্য যাতায়াতের সঙ্গে বিড়ম্বনারও  শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। দিন দিন এর মাত্রাও বাড়ছে। চার দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থলবন্দরে সেবার মানও অপ্রতুল। ডলার ইনডোর্স ও মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা নেই। ব্যাগেজ ক্লিয়ারেন্স নিয়েও পদে পদে জটিলতায় পড়তে হয় যাত্রীদের। থাকা-খাওয়ার জন্য নেই কোনো হোটেল রেস্টুরেন্ট। পুলিশের পাশাপাশি দালালদের হয়রানি তো আছেই। বাংলাবান্ধায় নেই কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কও। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২০০ গজ ব্যাগেজ বহন করার সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পর্যটকরা। জিরো পয়েন্টে যেটুকু সড়ক রয়েছে তা আমদানি-রপ্তানি কাজে ট্রাকের আসা-যাওয়ায় প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। ফলে যাত্রীদের উঁচু-নিচু পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধায় সরাসরি যানবাহন নেই। এমনকি বাংলাবান্ধা থেকে দিনাজপুর ও রংপুর পর্যন্ত সরাসরি গাড়ি না থাকায় এই চেকপোস্ট ব্যবহারকারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাবান্ধায় কয়েকটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পর্যটক, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা। এ ছাড়া অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে এই চেকপোস্টে সিসি ক্যামেরা ও স্ক্যানিং মেশিনও চোখে পড়েনি।

বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই স্থলবন্দর দিয়ে মানুষ যাতায়াত কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের ৬ মাসেই চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছে ৯ হাজার ৩২৬ জন। গত তিন মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুন মাসে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছেন ১ হাজার ৩৯০ জন। জুলাই মাসে ১ হাজার ৯০৮ জন এবং আগস্ট মাসে ১ হাজার ৬৯১ জন। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাত্রী যাতায়াত করেছেন ১ হাজার ২৯৩ জন। এই সংখ্যা প্রতিমাসেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি প্রচুর সম্ভাবনাময়। এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যত সহজে চারটি দেশ ভ্রমণ করা যায় দেশের অন্য চেকপোস্টগুলো দিয়ে তা সম্ভব নয়। কারণ বাংলাবান্ধা—ফুলবাড়ী স্থলবন্দর থেকে ভারতের শিলিগুড়ি শহর মাত্র ৬ কিলোমিটার। জলপাইগুড়ি শহর ১০ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার, নেপালের কাকরভিটা ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের ফুলসিলিং শহর মাত্র ৬৮ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টারের একমাত্র প্রবেশ পথ। পর্যটকরা যাতায়াত করলে উভয় দেশই লাভবান হবে। পর্যটক বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী হয়রানিও বাড়ছে। ফলে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সম্ভাবনাময় এই চেক পোস্ট থেকে। যাত্রী সাধারণের অভিযোগ, অন্যান্য চেকপোস্টের মতোই এখানেও শুরু হয়েছে দালালদের উৎপাত। ভ্রমণকর চার্জ ৫০০ টাকা হলেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। কোনো কোনো যাত্রীকে ২ হাজার টাকাও দিতে হয়। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী  উপজেলার নরেন্দ্রচন্দ্র সিংহ (৪৮) চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন এক মাস আগে। তিনি জানান, যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশনের সব কাজ শেষ করতে তার ৮০০ টাকা খরচ হয়। ভ্রমণ কর বাবদ ৫০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাকি টাকা বিভিন্ন কার্যালয়কে দিতে হয়। দিনাজপুর মুন্সিপাড়ার ৫টি পরিবার একসঙ্গে দার্জিলিং ভ্রমণ শেষে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে পোর্ট কর্তৃপক্ষের ইমিগ্রেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একজন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই প্রতিবেদককে নিজেই গুনে দেখান। দেখা যায় নির্ধারিত ফির থেকে তিনি ১৩ টাকা বেশি নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুখ কাঁচুমাচু করে বলেন, ‘যাত্রীর কাছে খুচরা ছিল না তাই বেশিই দিয়ে গেছেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতার ইশারায় চলছে এই  চেকপোস্ট। তিনি দালালদের সুযোগ দিয়েছেন। তার কথাতেই চলে এই বন্দর।  এদিকে ইমিগ্রেশন পুলিশেরও হয়রানি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল জানান, যাত্রীদের কাজগুলো করে দেই। আমরাই তাদের কাছ থেকে ৮০০-৯০০ টাকা নেই। এর মধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ১০০, ইমিগ্রেশন পুলিশকে ১৫০ টাকা পোর্ট ফি এবং ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিয়ে আর বাকিটা তার থাকে। তবে ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই কানন সরকার ও শাহ আলম যাত্রী হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এই চেকপোস্টে যাত্রীদের হয়রানি করা হয় না। দিন দিন যাত্রী বাড়ছে। চেকপোস্টটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল আলম পাটোয়ারী জানান, পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে এটি চালু হওয়ায় নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow