Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৩৮
শ্রমবাজারে শুধুই আশ্বাস
উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে প্রবাসীদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা
জুলকার নাইন
শ্রমবাজারে শুধুই আশ্বাস

শ্রমবাজারে এখন চলছে আশ্বাসের ফুলঝুরি। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা বড় শ্রমবাজারগুলোর দরজা খুলে গিয়ে বিশাল সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরির খবর পাওয়া যাচ্ছে কয়েকদিন পরপরই।

আসছে নতুন নতুন বাজারের সন্ধানও। ফলে প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছু ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের মতো বৃহৎ বাজার কাগজে কলমে খুলে গেলেও অদৃশ্য সব সংকটে আটকে আছে এই দুই দেশে জনশক্তি প্রেরণ। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর খবর তৈরি করেছে নতুন উৎকণ্ঠা। বিরূপ আচরণের শিকার হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের নানান দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে।

শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ সালে বন্ধ হওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের বন্ধ্যত্ব কাটছে না কিছুতেই। কয়েক বছর ধরে বারবার ঘোষণা দিয়েও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। প্রথমে ‘জিটুজি’ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। জিটুজির ব্যর্থতায় গত বছরের জুনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (বিটুবি পদ্ধতি) কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর দুই মাস পর মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরে ঘোষণা করা হয়, বিটুবি নয়, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে। এ পদ্ধতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিও কর্মী পাঠাবে। তখন সরকার জানায়, মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ কর্মী পাঠানো হবে। স্বাক্ষর হয় সমঝোতা স্মারক। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই মালয়েশিয়ার সরকার জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকবে। এখন আবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা শোনা যাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়া  থেকে ঢাকায় চিঠি এসেছে। কিন্তু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান না হলে এই শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদী হতে পারছে না কেউ। একই পরিস্থিতি দেশের অপর বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবের। সেখানেও চলছে একের পর এক আশ্বাস। ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব। তবে গত দেড় বছর নারী গৃহকর্মীদের পাশাপাশি শুধু গৃহ খাতের কর্মী নিয়োগ করেছে দেশটি। ফলে সেখানে যেতে পেরেছেন নগণ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী। এ বছরের ১১ আগস্ট সব ধরনের কর্মী নিয়োগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। কিন্তু এরপর শুরু হয়েছে ৮-১০ লাখ টাকায় ভিসা কেনাবেচা। ফলে নতুন করে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণে আটকে আছে সৌদি শ্রমবাজার। এরই মধ্যে নতুন শ্রমবাজার হিসেবে সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে রাশিয়া ও জাপানের। ইতিমধ্যে রাশিয়া হতে দুইশ-দুইশ করে মোট চারশ জনের ডিমান্ড লেটার পাওয়া গেছে। গার্মেন্টস, কনস্ট্রাকশনসহ জেনারেল (বিভিন্ন) খাতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এসব কর্মী যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা মোট শ্রমবাজারের তুলনায় অত্যন্ত স্বল্প। একই সঙ্গে নেগেটিভ জন্মহারের কারণে ক্রমশ হ্রাসমান জনসংখ্যা এবং একই সঙ্গে আয়ু বাড়ার ফলে বয়োবৃদ্ধ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন ব্যাপক লোকবল সংকটে পড়া জাপান বিদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। শোনা যাচ্ছে, জাপানে নীতি পরিবর্তন করে নতুন করে কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সেটাও যে নিকট অতীতে নয়, তাও স্পষ্ট।

up-arrow