Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:২৮
সাত খুন মামলার জেরা
কাঠগড়ায় নূর হোসেনকে চড়, এমদাদকে মারধর
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে গতকাল কাঠগড়ায় চড় মেরেছিলেন আরেক আসামি হাবিলদার এমদাদুল হক। ঘটনার জেরে নূর হোসেনের সহযোগী অন্য আসামি আলী মোহাম্মদ, দেহরক্ষী মোস্তফা জামান চার্চিলসহ বেশ কয়েকজন মিলে এমদাদকে কাঠগড়াতেই মারধর করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডলকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির সময় এ ঘটনা ঘটে। মামলার আগের ধার্য তারিখগুলোয় অসুস্থতার অজুহাতে নূর হোসেনকে কাঠগড়ার বাইরে রাখা হলেও গতকাল বিচারক তাকে কাঠগড়ায় অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি থাকলেও বর্তমানে তিনি জেলার বিশেষ শাখার পরিদর্শক পদে কর্মরত।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়া হলে দুপুরের খাবার নিয়ে ওই ঘটনা ঘটে। পরে আসামিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করেন। বিকাল ৩টায় পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পৌনে ৫টায় জেরা শেষ হয়। গতকাল মেজর (অব.) আরিফ হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ ভূঁইয়া জেরা শেষ করার পর মামলার অন্যতম আসামি লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুলতান উজ জামান ও অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন। তবে গতকাল তারা জেরা শেষ করতে পারেননি। বিচারক মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন ২৯ সেপ্টেম্বর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বিচারকের নির্দেশে আদালতের এজলাসের ভিতরই আসামিদের খাবার সরবরাহ করা হয়। ওই সময় নূর হোসেনের আইনজীবী ২৩ প্যাকেট বিরিয়ানির ব্যবস্থা করেন। এমদাদুল হক নিজে ২ প্যাকেট বিরিয়ানি নিজের কাছে রাখায় একজনের খাবার কম পড়ে। নূর হোসেন জানতে চান, এমদাদের কাছে ২ প্যাকেট কেন? এ নিয়ে হাবিলদার এমদাদের সঙ্গে নূর হোসেনের তর্ক বেধে যায়। তখন এমদাদ হঠাৎ নূর হোসেনকে চড় মারেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড থেকে নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার শান্তিরচর এলাকা থেকে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে একই স্থান থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

up-arrow