Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৬
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সংসদেও আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। সড়কে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কী করেছেন তা জানতে চান সংসদ সদস্যরা। জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোরবানির ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায় স্বীকার করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যেভাবে পাখির মতো মানুষ মারা গেছে সরকারের পক্ষ থেকে আমি সে দায় স্বীকার করে নিয়েছি। যদিও আমি চালকও নই মালিকও নই। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে আমি দায় নিয়েছি। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। গতকাল সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের উদ্বোধনী বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ দায় স্বীকার করেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার ওপর এক অনির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে স্বতন্ত্র সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী অংশগ্রহণ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকশ মানুষ মারা যায়নি, ১৫৩ জন মারা গেছেন। তারপরও আমি বলি একজন মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয়। আসলে সমস্যা হয়ে গেছে কার ঘাড়ে দোষ চাপাব। তিনি বলেন, ঈদের সময় রাস্তা খালি থাকে। এ সময় ওভার টেকিং, ওভার স্পিড থাকে, থাকে ওভার লোডিংও। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে আমি দায় নিয়েছি। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তাহজীব আলম সিদ্দিকী (ঝিনাইদহ-২) বলেন, আমাদের  সেতুমন্ত্রী গাড়ি চালকদের কখনো রাস্তার রাজা, কখনো আলেকজান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমার প্রশ্ন হলো— রাস্তায় যদি এত প্রতাপশালী আলেকজান্ডারই থাকে, তাহলে মন্ত্রী-মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা কোথায়? যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, তাদের কি বছরে দুবার ঈদ উদযাপনে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে বাড়ি যাওয়ার অধিকার নেই? তাহজীব আলম সিদ্দিকী আরও বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই এমন নজির আছে যে, রেল দুর্ঘটনার পরে রেলমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু যোগাযোগ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাদের কোনো মন্ত্রীকে সামান্য দুঃখ প্রকাশও করতে শুনিনি। তিনি বলেন, এবার ঈদের পূর্বে বাড়ি ফেরার সময় এবং ঈদ উদযাপনের পরে কর্মক্ষেত্রে ফেরার সময় কী নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। ঈদের সময় বেশি যানবাহনে কিছুটা দুর্ভোগ হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠবে—এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow